ভাইরাল হওয়া ‘অশ্লীল ভিডিও’ নিয়ে যা বললেন এমপি আজিজ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁকে জড়িয়ে একটি কথিত অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা এবং এতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এ ঘটনাকে নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন আব্দুল আজিজ। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের কথা জানিয়েছে জেলা বিএনপি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এক পুরুষকে নগ্ন অবস্থায় এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর কথোপকথনে দেখা ও শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভিডিওটি আসল, নাকি সম্পাদিত—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এতে থাকা ব্যক্তি সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ কি না, সে বিষয়েও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট নারীর পরিচয়ও জানা যায়নি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া ভিডিওটির ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা সমীচীন নয়।
আব্দুল আজিজ দাবি করেন, নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি নিজ দলের একটি অংশ ও বিরোধী পক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন। তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কথিত ভিডিওটি তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল নেতা শাকিল আহমেদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি এমনিতেই বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে এ ধরনের ভিডিও ছড়িয়ে তাঁকে আরও চাপে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভিডিওটি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে আব্দুল আজিজ বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। আগামী শুক্রবার জেলা বিএনপির জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
তিনি জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আব্দুল আজিজ সংসদ সদস্য হওয়ায় বিষয়টি বিএনপির হাইকমান্ডকেও জানানো হবে।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে অতীতেও গুরুতর অভিযোগ ওঠার দাবি করেছেন। তবে তাঁর করা অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি পাওয়া যায়নি এবং বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি। তাই অভিযোগটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
কয়েকজন ছাত্র ও যুবনেতাও ঘটনাটি নিয়ে আব্দুল আজিজের বক্তব্য ও অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তিনি জড়িত না থাকলে প্রকাশ্যে অভিযোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেন।
গত ১৫ অক্টোবর গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে ২৬ অক্টোবর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরদিন ২৭ অক্টোবর রাতে শাকিলের জানাজায় অংশ নিতে গেলে আব্দুল আজিজ হেনস্তার শিকার হন। এর পরদিনই তাঁকে ঘিরে কথিত অশ্লীল ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ভিডিওটির সত্যতা, এতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় এবং এর পেছনে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
