এমপি আব্দুল আজিজের ‘অশ্লীল ভিডিও’ ভাইরাল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর বলে দাবি করা একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সংসদ সদস্যের দাবি, রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে এক নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে আপত্তিকর কথোপকথন ও অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভিডিওটি আসল, সম্পাদিত নাকি এআই দিয়ে তৈরি—তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ ‘দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস’কে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সম্পাদিত। রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয় করার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ ও শত্রুপক্ষ পরিকল্পিতভাবে এআইয়ের মাধ্যমে ভিডিওটি তৈরি করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গেও কথা বলেন আব্দুল আজিজ। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শাকিল হামলাকারীদের কাউকে চিনতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
আব্দুল আজিজ বলেন, শাকিল চিকিৎসাধীন থাকার সময় তিনি নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য অর্থও দিয়েছেন। শাকিলের বাবা তাঁর ছেলের দায় নেই বলে স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ মাঠে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের জানাজার আগে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রিয় ভাইয়েরা আমার, আমার একটা কথা শুনতে হবে দাদারা।’ এরপর উপস্থিত মুসল্লি ও নেতাকর্মীদের একাংশ ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
এ সময় এমপি আজিজ বলেন, তাঁর ছেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকলেও তিনি ছেলের নয়, শাকিলের পক্ষেই থাকবেন। পরে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতি করেই তিনি বর্তমান অবস্থানে এসেছেন এবং শাকিল হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
জানাজায় শাকিলের পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন আব্দুল আজিজ। তবে এ ঘোষণার পরও সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন হুইপ দুলু।
জানাজা শেষে রাত ১১টার দিকে মুসল্লিদের একটি অংশ মিছিল নিয়ে চাঁচকৈড় বাজারে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে আমেরিকাপ্রবাসী রাসেলের মালিকানাধীন ‘রাশ আরবান স্টাইল’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ দোকান থেকে মালামাল নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে তাঁকে নাটোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমীর হোসেন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক মাহমুদুল হাসান তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে সোমবার রাত ১টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবাড়িষা এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে মিন্টুকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
এদিকে, শাকিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান মিন্টুকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না। একই সঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম চাঁচকৈড় বাজার থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নূর একাডেমির সামনে হেলমেট পরা দুই যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দিলে মোটরসাইকেলে করে তাঁকে ধাওয়া করা হয়।
একপর্যায়ে শহিদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তাঁকে ধরে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত শাকিলকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাঁকে।
১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাত ৮টার দিকে শাকিলের মৃত্যু হয়। তাঁর বাবা রবিউল করিম গত ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আট থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, শাকিল হত্যা মামলায় নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
