নির্বাচনের পরও অনিশ্চয়তা, ফের ভোটের পথে ইসরাইল?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইসরাইলের সংসদ নির্বাচনে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন কোনো শিবিরই এককভাবে সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘ দরকষাকষির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে দেশটিতে আবারও নির্বাচন হতে পারে।
নির্বাচনের জটিল সমীকরণে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো নির্ণায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। বুথফেরত সমীক্ষা ও প্রাথমিক ফলাফলে এসব দলের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেছে।
তবে নেতানিয়াহু ও তাঁর সহযোগীরা শুরু থেকেই আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করে আসছেন। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরও এসব দলের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে বিভিন্ন শর্ত ও দ্বিধার মধ্যে রয়েছে।
ফলে সরকার গঠনের পথ সুগম করতে দলগুলোকে আগের অবস্থান থেকে সরে এসে সমঝোতায় পৌঁছাতে হতে পারে। অন্যথায় রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভোট গণনা চলার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর নির্বাচনী পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, তাঁর কাছে খবর এসেছে যে নেতানিয়াহু বেশ ভালো করেছেন।
এর আগে নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। এই সমর্থন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে নির্বাচনের রাতে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু তাঁর সরকারের সামরিক অর্জন তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ইরানের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং এর পরবর্তী আঞ্চলিক যুদ্ধ এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। এসব ঘটনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ইসরাইলি ভোটারদের মধ্যে তীব্র বিভাজনও দেখা গেছে।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জ দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো নেতা সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পার্লামেন্ট বা নেসেট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের পথ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
