নির্বাচন কমিশনে আয়-ব্যয়ের হিসাব দিলো বিএনপি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ২০২৫ সালের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত (অডিটেড) হিসাব জমা দিয়েছে। দলটির হিসাব অনুযায়ী, গত বছরে বিএনপির মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৮২ টাকা। একই সময়ে দলটির মোট ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা। ফলে বছর শেষে বিএনপির উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩২৫ টাকা।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল আনুষ্ঠানিকভাবে এ হিসাব জমা দেয়।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, দলের প্রারম্ভিক স্থিতি ছিল ২১ কোটি ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫ টাকা। ২০২৫ সালে বিএনপির মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৮২ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা। সব ব্যয় বাদ দিয়ে দলের উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩২৫ টাকা।
রিজভী বলেন, বর্তমানে বিএনপির ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে ২৮ কোটি ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ টাকা। এছাড়া হাতে নগদ রয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৭০০ টাকা। সব মিলিয়ে দলটির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ৭ লাখ ৩৬০ টাকা।
আরো পড়ুন : সমাজের নিকৃষ্ট মানুষ আওয়ামী লীগ করে: জ্বালানিমন্ত্রী
তিনি বলেন, আইন ও বিধি অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশনে দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়া হয়েছে। এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। দলীয় আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই আমরা নিয়মিত হিসাব জমা দিই। আমরা মনে করি, একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর পরিচালনা, আয়ের উৎস এবং ব্যয়ের খাত সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।
এদিকে বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, দলের সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া অনুদান এবং দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির অর্থ থেকে বিএনপির আয়ের বড় অংশ এসেছে।
তিনি বলেন, অন্যদিকে সারা বছরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, দলের প্রয়োজনে যানবাহন কেনা, প্রচারপত্র ও পোস্টার প্রকাশ, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং অসচ্ছল নেতা-কর্মীদের সহায়তাসহ বিভিন্ন খাতে এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো রাজনৈতিক দল টানা তিন বছর এ হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনবোধে তাদের নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতা রাখে।
