ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে প্রতারণা, ছাত্রদলকর্মী আটক
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ফেনীর পরশুরামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনুর ছবি সংবলিত বিএনপির একটি সভার পুরোনো ডেলিগেট কার্ড গলায় ঝুলিয়ে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক ছাত্রদলকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ডিএম সাহেব নগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ওই যুবকের নাম মো. সুজন আকাশ (৩০)। তিনি উপজেলার দুবলাচাঁদ গ্রামের শাহ আলমের ছেলে ও ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী। এ ঘটনায় উপজেলার ডিএম সাহেব নগর গ্রামের বাসিন্দা শেখ এছাক বাদী হয়ে সুজনের বিরুদ্ধে পরশুরাম থানায় প্রতারণার মামলা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সুজন বিএনপির একটি পুরোনো মতবিনিময় সভার ডেলিগেট কার্ড গলায় ঝুলিয়ে উপজেলার সাহেব নগর গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোকে ফ্যামিলি কার্ড বা সরকারি সহায়তার কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখান।
আরও পড়ুন: দাবি না মানলে ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার পতন: ডা. শফিকুর রহমান
ডিএম সাহেব নগরের আবদুর রহমান জানান, কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে সুজন অন্তত পাঁচটি পরিবারের কাছ থেকে ১ হাজার ২২০ টাকা করে নগদ অর্থ আদায় করেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় নারীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপিও সংগ্রহ করেন। একপর্যায়ে তার কথাবার্তায় সন্দেহ হলে সুজনকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এলাকাবাসী।
তাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার দায়িত্ব কে দিয়েছে জানতে চাওয়া হলে সুজন কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে স্থানীয়রা সুজনকে আটকে রেখে পরশুরাম থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন বলে জানান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।’
পরশুরাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিম বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভার একটি পুরোনো ডেলিগেট কার্ড গলায় ঝুলিয়ে সুজন নামে এক প্রতারক ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে কয়েকটি পরিবারের কাছ থেকে ১ হাজার ২২০ টাকা করে সংগ্রহ করেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে বলা হয়েছে।’
পরশুরাম মডেল থানার ওসি মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে সুজন নামে একজনকে আটক করে স্থানীয়রা সোপর্দ করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কিনা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
