হুমকির মুখে বলিউড অভিনেতা আমির খান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
তৃতীয়বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসে ‘লাভ জিহাদ’ প্রচারের অভিযোগে হুমকির মুখোমুখি হয়েছেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই হুমকি দিয়েছেন লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আরজু বিষ্ণোই এবং আরেক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে টাইসন বিষ্ণোই হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই পোস্টটির সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
ওই পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, আমির খান দেশে ‘লাভ জিহাদ’ প্রচার করছেন। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, তাকে তারা ‘সহ্য করবে না’।
পোস্টে লেখা হয়েছে, “আমি আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই (লরেন্স বিষ্ণোই গ্রুপ) বলতে চাই, আমির খানের মতো মানুষ আমাদের দেশে যাকে ‘লাভ জিহাদ’ বলা হচ্ছে, সেটিকে উৎসাহিত করছেন। এটি আমাদের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। আমরা এই মানুষটিকে সহ্য করব না এবং খুব শিগগিরই তাকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এটি সনাতন ধর্মের বিরুদ্ধে এবং দেশের বিরুদ্ধেও।”
পোস্টে আরো বলা হয়েছে, “আমরা আমাদের ভাই, বোন এবং দেশের নাগরিকদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যারা এ ধরনের লজ্জাজনক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করবে, তাদের আমরা আমাদের নিজস্ব উপায়ে জবাব দেব। তারকাখ্যাতির আড়ালে যারা এসব উৎসাহিত করছে, তাদেরও চুপ করিয়ে দেওয়া হবে।”
একই পোস্টে রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে গত মাসে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ, মানবপাচার এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সংঘটিত একটি ঘটনারও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করা হলেও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের রক্ষা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরো পড়ুন : ‘এক দিন না এক দিন তোমাদের বিচ্ছেদ হবে’
পোস্টে বলা হয়েছে, “আমরা রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে এক নিরীহ মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অপরাধের বিষয়টিও উল্লেখ করতে চাই। প্রশাসন প্রশংসনীয় কাজ করেছে। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক নেতা অভিযুক্তদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। এটি আমাদের প্রথম এবং শেষ সতর্কবার্তা—যারা ওই নিরীহ মেয়েটির বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধে এক শতাংশও জড়িত থেকেও আইনের হাত থেকে রেহাই পেয়ে যাবে, তাদের আমরা নিজেরাই শাস্তি দেব। যারা তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন, সেই রাজনৈতিক নেতাদেরও অবিলম্বে এ ধরনের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় যাদের রক্ষা করছেন, তাদের মতো পরিণতি তাদেরও হবে। মানবিকতা দেখান।”
পোস্টে আরো বলা হয়েছে, “আমাদের দুই শহীদ ভাই, পারভেশ ও হিমাংশু সবসময় আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। তাদের আত্মত্যাগ আমরা বৃথা যেতে দেব না। আমাদের শত্রুরা উপযুক্ত জবাব পাবে। ঈশ্বর তাদের আত্মার শান্তি দান করুন।”
পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ফেসবুকে প্রকাশিত পোস্ট এবং একটি ভয়েস নোটের মাধ্যমে এই কথিত হুমকির তথ্য তাদের কাছে পৌঁছেছে। বর্তমানে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ।
সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত আমির খান কিংবা তার টিমের পক্ষ থেকে মুম্বাই পুলিশের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি। তবে আমির খান বা তার টিম অভিযোগ করলে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে হুমকির মুখে পড়েছিলেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান। কয়েক বছর ধরে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ধারাবাহিক হুমকির মুখে রয়েছেন তিনি।
২০২২ সালে পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী সিদ্ধু মুসেওয়ালাকে হত্যার দায় স্বীকার করার পর লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। গ্যাংটির দাবি, ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালে যোধপুরের কাছে মাথানিয়ার বাওয়াদ এলাকায় সালমান খান কৃষ্ণসার (ব্ল্যাকবাক) হরিণ শিকার করেছিলেন। বিষ্ণোই সম্প্রদায় কৃষ্ণসার হরিণকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে। সেই ঘটনার জের ধরেই তারা সালমান খানকে হত্যা করতে চায় বলে দাবি করে।
২০১৮ সালে আদালতে হাজিরার সময় লরেন্স বিষ্ণোই বলেছিলেন, “আমরা যোধপুরেই সালমান খানকে হত্যা করব। যখন আমরা পদক্ষেপ নেব, তখন সবাই জানতে পারবে। এখন পর্যন্ত আমি কিছুই করিনি। অথচ অকারণেই আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ আনা হচ্ছে।”
২০২৪ সালের এপ্রিলে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমান খানের বাড়ির বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনার দায়ও লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং স্বীকার করেছিল। এ ছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবরে বান্দ্রায় মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করার সময়ও গ্যাংটি সালমান খানের নাম উল্লেখ করে। তাদের এক সদস্য দাবি করেছিলেন, বাবা সিদ্দিকী সালমান খানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং যারা সালমান খানকে সহযোগিতা করবে, তারাও তাদের নিশানায় থাকবে।
