অনলাইনে জমির পর্চা খুঁজবেন যেভাবে, জানুন পুরো প্রক্রিয়া
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বর্তমানে ডিজিটাল সেবার বিস্তারের ফলে ঘরে বসেই জমি-সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। জমির মালিকানা যাচাই, ক্রয়-বিক্রয়, নামজারি (মিউটেশন), ব্যাংক ঋণ গ্রহণ কিংবা আদালতে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিলগুলোর একটি হলো জমির পর্চা। এখন অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজেই এই পর্চা খুঁজে বের করা এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এর সার্টিফাইড কপিও সংগ্রহ করা যায়।
জমির পর্চা কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ, কীভাবে অনলাইনে খুঁজবেন, কী কী তথ্য লাগবে এবং কীভাবে সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করবেন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক আইনজীবী।
জমির পর্চা কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, জমির পর্চা হলো একটি খতিয়ানের প্রাথমিক বা খসড়া কপি, যা সরকারি নথি হিসেবে সংশ্লিষ্ট জমির বর্তমান মালিক বা দখলদারের পরিচয় তুলে ধরে। এটি জমির মালিকানার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
জমি কেনাবেচার সময় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই পর্চা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে, নামজারি করতে, উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তির মালিকানা নির্ধারণ করতে কিংবা আদালতে জমি-সংক্রান্ত মামলায় প্রমাণ হিসেবে পর্চার গুরুত্ব অনেক। পর্চা না থাকলে বা এতে ভুল তথ্য থাকলে জমির মালিকানা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আরো পড়ুন : সোমবার প্রকাশ হচ্ছে না এসএসসি পরীক্ষার ফল
অনলাইনে যেভাবে জমির পর্চা খুঁজবেন
আগে জমির পর্চা সংগ্রহ করতে ভূমি অফিসে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এখন অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই নির্দিষ্ট জমির তথ্য অনুসন্ধান করা যায়। এ জন্য জমির মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম ব্যবহার করে সহজেই অনুসন্ধান করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করলে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের মাধ্যমে পর্চার কপি সংগ্রহ করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে সেটি অনলাইনে ডাউনলোড করা যায়, আবার প্রয়োজন হলে ডাকযোগেও সরবরাহ করা হয়।
ePorcha ওয়েবসাইটে যেভাবে সার্চ করবেন
জমির পর্চা খুঁজতে প্রথমে ePorcha ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর ধাপে ধাপে—
- বিভাগ নির্বাচন করতে হবে।
- জেলা নির্বাচন করতে হবে।
- উপজেলা নির্বাচন করতে হবে।
- মৌজা নির্বাচন করতে হবে।
এরপর খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম লিখে সার্চ অপশনে ক্লিক করতে হবে।
তথ্য সঠিক হলে সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ানের তথ্য স্ক্রিনে দেখা যাবে। সেখান থেকে জমির মালিকানা, দাগ নম্বর, জমির শ্রেণিসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা সম্ভব।
অনলাইনে আবেদন করতে যেসব তথ্য প্রয়োজন
অনলাইনে জমির পর্চা সংগ্রহের আবেদন করার আগে কিছু তথ্য প্রস্তুত রাখা জরুরি। যেমন—
- বিভাগ
- জেলা
- উপজেলা
- মৌজার নাম
- খতিয়ান নম্বর অথবা দাগ নম্বর
- জমির মালিকের নাম
এ ছাড়া আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, একটি সচল মোবাইল নম্বর এবং অনলাইন পেমেন্টের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সামান্য ভুল থাকলেও কাঙ্ক্ষিত খতিয়ান খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সব তথ্য সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে দেওয়া উচিত।
সার্টিফাইড কপি সংগ্রহের পদ্ধতি
শুধু তথ্য দেখাই নয়, অনলাইনের মাধ্যমে জমির পর্চার সার্টিফাইড কপি সংগ্রহের ব্যবস্থাও রয়েছে।
এ জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান অনলাইনে খুঁজে বের করতে হবে। এরপর নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
আবেদন অনুমোদিত হলে সার্টিফাইড কপি অনলাইনে ডাউনলোড করা যায়। চাইলে ডাকযোগেও সেই কপি গ্রহণ করা সম্ভব। আদালত, ব্যাংক কিংবা অন্যান্য সরকারি কাজে এই সার্টিফাইড কপি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য।
জমির পর্চা ও খতিয়ানের মধ্যে পার্থক্য
অনেকেই জমির পর্চা ও খতিয়ানকে একই বিষয় মনে করেন। তবে বাস্তবে দুটি নথির মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
আইনজীবী জানান, খতিয়ান হলো জমির পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড বা রেকর্ড অব রাইটস। এতে জমির মালিকের নাম, দাগ নম্বর, জমির শ্রেণি, জমির পরিমাণ, অংশ, খাজনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকে।
অন্যদিকে জমির পর্চা হলো সেই খতিয়ানের একটি কপি বা নির্যাস। এটি মূলত তথ্য যাচাই, মালিকানা নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, খতিয়ান হলো মূল সরকারি রেকর্ড, আর পর্চা হলো সেই রেকর্ডের ব্যবহারযোগ্য কপি। তবে জমির মালিকানা, ক্রয়-বিক্রয়, উত্তরাধিকার, নামজারি এবং আইনি প্রক্রিয়ায় উভয় নথিই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি কেনার আগে বা কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট জমির পর্চা ও খতিয়ান ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। এতে প্রতারণার ঝুঁকি কমে এবং ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কাও অনেকাংশে হ্রাস পায়।
