×

যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:১১ পিএম

ইরানে বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসরায়েলে কয়েক ডজন আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) সামরিক বিমান পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদনটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। খবর এনডিটিভির।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে টহলরত মার্কিন বাহিনীর চলাচল ও সামরিক সরঞ্জাম তাদের নিবিড় নজরদারির আওতায় রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে নৌ অবরোধের মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক জীবনরেখা বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশে যে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, তাদের সব ধরনের গতিবিধি ইসলামিক রিপাবলিকের নৌ ইউনিটগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই অঞ্চলের জলসীমায় সেন্টকম-এর নৌ ইউনিটগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানের ‘শূন্য মুহূর্ত’-এর দিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিটি মুহূর্তে আরো এগিয়ে যাচ্ছে।

বিবৃতির শেষদিকে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, “অপেক্ষা করুন, দেখবেন।”

এদিকে ইরানে এই অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসরায়েলে রিফুয়েলিং বিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০টি সামরিক রিফুয়েলিং বিমান রয়েছে। একই সংখ্যক বিমান দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত রামন বিমানবন্দরেও অবস্থান করছে।

আরো পড়ুন : মধ্যস্থতার টেবিল থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়াতে পারে পাকিস্তান

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী মূলত বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকেই এসব রিফুয়েলিং বিমান পরিচালনা করবে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের হামলার ঝুঁকিতে বেশি রয়েছে। ফলে সেসব ঘাঁটি মার্কিন বিমানের জন্য তুলনামূলকভাবে কম নিরাপদ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ইরান সরাসরি ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলা চালাতে কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কারণ এমন পদক্ষেপ নিলে ইসরায়েল ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে ব্যাপক পাল্টা হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিভিন্ন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

আলোচনায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনে ভূগর্ভে সংরক্ষিত ইউরেনিয়াম আরো গভীরে চাপা দেওয়ার মতো পরিকল্পনাও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

এ ছাড়া পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নামে পরিচিত একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাতেও হামলার বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, ওই স্থাপনাটির সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সম্পর্ক রয়েছে।

যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প, তবে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি যুদ্ধকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত, যাতে ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে বাধ্য হয় এবং পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেয়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে ট্রাম্প ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন-এর সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করছেন।

বৃহস্পতিবার টানা পঞ্চম দিনের মতো হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে বন্দর আব্বাস শহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। এই শহরটি হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসির কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, গোলাবারুদ, সামরিক সরঞ্জাম এবং অতিরিক্ত সেনা সদস্য বন্দর আব্বাস হয়ে হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছানো হচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার ইরান দাবি করেছে, জর্ডানে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক বিমান তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ধ্বংস করেছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামিক রিপাবলিকের বিভিন্ন স্থানে রাতভর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত আটজন নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি রিফুয়েলিং বিমান ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছি এবং আরো বহু বিমানের গুরুতর ক্ষতি করেছি।

এ ছাড়া আইআরজিসি আরো দাবি করেছে, তারা সিরিয়ায় অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগেই ওই ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনারা সরে গেছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে। এরপর থেকেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে টানা পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা আরো বেড়ে গেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

যে কারণে ফাইনালের মঞ্চে থাকবেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ও ইয়ামালের বাবা

যে কারণে ফাইনালের মঞ্চে থাকবেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ও ইয়ামালের বাবা

এলডিসি উত্তরণে সময় বাড়ানোর দাবি বাণিজ্যমন্ত্রীর

এলডিসি উত্তরণে সময় বাড়ানোর দাবি বাণিজ্যমন্ত্রীর

কুয়েতে একের পর এক হামলা, বিমানে ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়

কুয়েতে একের পর এক হামলা, বিমানে ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়

কেন পদত্যাগ করলেন জয়পুরহাট জেলা এনসিপির আহ্বায়ক

কেন পদত্যাগ করলেন জয়পুরহাট জেলা এনসিপির আহ্বায়ক

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App