৭০০ জন লোকের সামনে শুধু অন্তর্বাস পরে দিয়া মির্জা! শুটিংয়ে কী হয়েছিল?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের একটি আলোচিত অভিজ্ঞতা নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন। ২০০১ সালে ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। এর কয়েক বছর পর ২০০৪ সালের ‘তুমসা নেহি দেখা’ ছবির একটি গানের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দিয়া জানান, ওই গানের দৃশ্যে তাঁকে প্রায় সব পোশাক খুলে শুধু অন্তর্বাস পরে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয়েছিল। সেটে প্রায় ৭০০ জন মানুষ উপস্থিত থাকলেও সেই পরিস্থিতিতে তিনি অস্বস্তিবোধ করেননি বলে জানান অভিনেত্রী।
দিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, শুটিং সেটে প্রায় ৫০০ জন দর্শক ও ২০০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন পুরুষ। এমন পরিবেশেও নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। আশপাশের মানুষের দৃষ্টি তাঁকে বিচলিত করেনি।

অভিনেত্রী বলেন, তখন তাঁর কাছে বিষয়টি শরীর প্রদর্শনের চেয়ে চরিত্র ও দৃশ্যের প্রয়োজন মেটানোর সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত ছিল। নিজেকে কোনো ‘পণ্য’ হিসেবে দেখার বদলে একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে উপস্থাপন করাকেই গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি।
‘তুমসা নেহি দেখা’ ছবিটি প্রযোজনা করেছিলেন মহেশ ভাট ও মুকেশ ভাট। ছবিতে দিয়ার বিপরীতে অভিনয় করেন ইমরান হাশমি।
সাক্ষাৎকারে বলিউডের সৌন্দর্যের প্রচলিত মাপকাঠির শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতাও জানিয়েছেন দিয়া। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তাঁকে চেহারা ও শরীরে নানা পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
দিয়ার দাবি, তাঁকে স্তনের আকার বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ঠোঁট মোটা করার জন্য ইনজেকশন নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। পরিচালকদের পাশাপাশি প্রযোজকদের কাছ থেকেও এমন মন্তব্য শুনতে হয়েছিল তাঁকে।
এসব মন্তব্যের প্রভাব তাঁর আত্মবিশ্বাসেও পড়েছিল। সাফল্য পাওয়ার পরও নিজের চেহারা নিয়ে একসময় হীনম্মন্যতায় ভুগতে শুরু করেছিলেন বলে জানান অভিনেত্রী।
দিয়া বলেন, সৌন্দর্যের দুটি প্রতিযোগিতায় জয়ের পরও তাঁকে মনে করিয়ে দেওয়া হতো যে তিনি যথেষ্ট সুন্দর নন। তখন তিনি খুবই অল্পবয়সী ছিলেন, বয়স ২০-ও হয়নি। বারবার এমন মন্তব্য শুনতে শুনতে নিজের যোগ্যতা ও সৌন্দর্য নিয়ে তাঁর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
ক্যারিয়ারের শুরুর সেই অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে এখন খোলামেলা কথা বলছেন দিয়া মির্জা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে একদিকে অভিনয়জীবনের শুরুর কঠিন বাস্তবতা, অন্যদিকে সৌন্দর্য ও নারীর শরীর নিয়ে বিনোদনজগতের প্রচলিত মানসিকতার প্রভাব।
