পবিপ্রবিতে র্যাগিংয়ের শিকার নবীন শিক্ষার্থী, শেবাচিমে ভর্তি
এম. কে. রানা, বরিশাল
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বিজয়-২৪ আবাসিক হলে পরিচয়পর্বের নামে র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এক নবীন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে বিজয়-২৪ হলের কমনরুমে নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচয়পর্বের নামে র্যাগিং করা হয় বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, সিনিয়র শিক্ষার্থীরা নবীনদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে ধমকানো, বাবা-মাকে নিয়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, মুখের সামনে সিগারেটের ধোঁয়া ছোড়া, কান ধরে উঠবস করানো এবং উল্টোভাবে গণনা করানোর মতো আচরণ করেন। গণনায় ভুল হলে আবারও উঠবস করানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
র্যাগিংয়ের শিকার মোহাম্মদ হাবিব পরিচয় দেওয়ার সময় নার্ভাস হয়ে পড়েন এবং শারীরিক অসুস্থতার কথা জানান। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের দাবি, এরপরও তাকে রেহাই দেওয়া হয়নি। বরং তিনি অসুস্থতার অভিনয় করছেন- এমন মন্তব্য করে র্যাগিং অব্যাহত রাখা হয়।
একপর্যায়ে রাত ১১টার দিকে হাবিবের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায় এবং তিনি পায়ের শক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে দুই শিক্ষার্থী তাকে গণরুমে নিয়ে যান। সেখানে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে দ্রুত তাকে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমান বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং র্যাগিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, “র্যাগিং একটি অপসংস্কৃতি। এ বিষয়ে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। র্যাগিং বন্ধে আবাসিক হলগুলোতে নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
