ছাত্র আন্দোলনে অচল বিশ্ববিদ্যালয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন মঙ্গলবারও অব্যাহত রয়েছে। সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে সেখানে অবস্থান নেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সদ্য অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এর আগে সোমবার রাতে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জানাজানি হলে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। একপর্যায়ে উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।
মঙ্গলবার সকালেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ চালিয়ে যান। তাদের দাবি, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করতে হবে। আন্দোলনের কারণে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস হয়নি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।
এদিকে একই দাবিতে মঙ্গলবার উপাচার্য ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। এর আগে সোমবার জরুরি সভা করে শিক্ষক সমিতিও অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছিল।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অধ্যাপক সায়েম গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণের ৫৬ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে উপাচার্য পরিবর্তনের কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিতে পারছেন না। তাদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাই তাকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান শিক্ষার্থীরা।
চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে না আসায় কোনো একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিক ভবনে তালা থাকায় প্রশাসনিক কাজও হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ বিষয়ে তাদের কোনো আলোচনা হয়নি।
এদিকে চুয়েটে শাটডাউন কর্মসূচি ঘিরে ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
