×

চট্টগ্রাম

রেমাক্রীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ, ওষুধ-স্যালাইনের তীব্র সংকট

Icon

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০১:২৩ পিএম

রেমাক্রীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ, ওষুধ-স্যালাইনের তীব্র সংকট

ছবি : ভোরের কাগজ

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নের কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামে ডায়রিয়ার প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। একই সঙ্গে ওরস্যালাইন, কলেরা স্যালাইন, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসকের সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে অনেক চিকিৎসক কর্মস্থলের বাইরে থাকায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

ঈদের আগে বিজিবি ও স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম চিকিৎসা সেবা দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রেমাক্রী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হ্লাথোয়াইপ্রু মারমা জানান, গত ২২ মে থেকে এ পর্যন্ত শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ শতাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসা কার্যক্রম চলার ফলে অর্ধশতাধিক রোগী সুস্থ হলেও বর্তমানে আক্রান্তদের বড় অংশই পানিশূন্যতায় ভুগছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত ওরস্যালাইন ও আইভি ফ্লুইড না থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক রোগীকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদর বা জেলা হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। স্থানীয় ফার্মেসিগুলোতেও কলেরা স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড সদস্য উমাচিং মারমা বলেন, গ্রোপিং পাড়ায় ১০ থেকে ১২ জন, আদা ম্রো পাড়ায় ৭ থেকে ৮ জন এবং রেমাক্রী বাজার এলাকায় ৫ থেকে ৬ জন বর্তমানে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। অধিকাংশই দরিদ্র হওয়ায় উপজেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ঈদের দিন বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হলেও এখনো কোনো চিকিৎসক এলাকায় আসেননি। স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকেও চিকিৎসক ও ওষুধের সংকট রয়েছে।

আরো পড়ুন : এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ছে বরিশালে, ঝুঁকিতে তরুণ প্রজন্ম

রোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, ঈদের ছুটির কারণে অনেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী কর্মস্থলে না থাকায় জরুরি চিকিৎসা সেবা সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়রিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শিশু ও বয়স্কদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আক্রান্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত স্যালাইন, ওষুধ এবং অতিরিক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করা জরুরি।

উল্লেখ্য, ঈদের ছুটিকালেও হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত ওষুধ, আইভি ফ্লুইড এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের নির্দেশনা ছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

রেমাক্রী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শৈবাথোয়াই মারমা বলেন, দ্রুত চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ না করা হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে। তিনি প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, তিনি ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে মেডিকেল টিম জানিয়েছিল। পুনরায় ডায়রিয়া বাড়ার বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন ও মেডিকেল টিম পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী দ্রুত মেডিকেল টিম প্রেরণ, অস্থায়ী স্বাস্থ্য ক্যাম্প স্থাপন এবং পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

কেউ ফিরছেন ঢাকায়, কেউ আজও বাড়ি যাচ্ছেন

কেউ ফিরছেন ঢাকায়, কেউ আজও বাড়ি যাচ্ছেন

রেমাক্রীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ, ওষুধ-স্যালাইনের তীব্র সংকট

রেমাক্রীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ, ওষুধ-স্যালাইনের তীব্র সংকট

ফ্যাটি লিভার নির্মূল হবে যে উপায়ে

ফ্যাটি লিভার নির্মূল হবে যে উপায়ে

আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ

আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App