ফটিকছড়ি
রাতের আঁধারে শতবর্ষী কবরস্থানের মাটি লুট
মুহাম্মদ দৌলত, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) থেকে
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃৃৃহীত
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শতবর্ষী কবরস্থান থেকে রাতের আঁধারে মাটি লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার নারায়ণহাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ধনিয়াপাড়া কবরস্থান থেকে মাটি লুটের ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুসে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের চানপুর মৌজার ১ নম্বর সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ‘কবরস্থান’ শ্রেণির জায়গাটি স্থানীয়রা শত শত বছর ধরে গোরস্থান হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
অভিযোগ উঠেছে, এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু মতিউর রহমান প্রকাশ লিয়াকত বিগত এক সপ্তাহ ধরে রাতের অন্ধকারে এস্কাভেটর দিয়ে কবরস্থান থেকে মাটি কেটে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো পর্যন্ত মাটি কাটা বন্ধ হয়নি।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিলার উপর বিশাল এলাকাজুড়ে কবরস্থানটির অবস্থান। এর এক পাশে রয়েছে সারি সারি কবর। কবর সংলগ্ন লম্বালম্বি একটি গভীর গর্ত। গর্তের কাছে গিয়ে এস্কাভেটরের তাজা কোপ প্রত্যক্ষ করা গেলেও এস্কাভেটরটি পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয়রা জানিয়েছে, এলাকার মানুষ যখন রাতে ঘুমিয়ে পড়ে তখন মাটি কাটার কাজ শুরু হয় এবং একটানা ভোর পর্যন্ত চলে।
জানতে চাইলে স্থানীয় সমাজপতি মাস্টার নুরুল আলম আজাদ বলেন, উক্ত জায়গাটি চারপাশের চার গ্রামের পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত কবরস্থান। পবিত্র এ স্থান থেকে মাটি কাটার ফলে কবরস্থানের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি যেমন বিলীন হয়ে যাচ্ছে, তেমনিভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত লাগছে, যা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মতিউর রহমান লিয়াকতের মন্তব্য জানতে চাইলে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জায়গাটি পূর্বপুরুষের আমল থেকে আমাদের পরিবার ভোগদখল করে আসছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, এ নিয়ে এলাকাবাসী থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
