×

রাশিয়া

রাশিয়ায় কাজের স্বপ্ন, শেষে ইউক্রেনে যুদ্ধবন্দি বাংলাদেশি তরুণ

Icon

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

রাশিয়ায় কাজের স্বপ্ন, শেষে ইউক্রেনে যুদ্ধবন্দি বাংলাদেশি তরুণ

ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের দারিদ্র্য দূর করার স্বপ্ন নিয়ে ২০২৫ সালের মার্চে দেশ ছেড়েছিলেন মো. রিমেল মিয়া (২২)। পরে ঘটনাচক্রে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে। এখন যুদ্ধবন্দী ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে। মো. রিমেল মিয়া উপজেলার ছাপড়হাটী ইউনিয়নের উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে। 

সরেজমিনে রিমেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি ছোট ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি। অভাব-অনটন যেন তাদের নিত্যসঙ্গী। সংসারের একমাত্র ভরসা ছিলেন রিমেল। তার উপার্জনের আশাতেই ধারদেনা করে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন বাবা-মা।

রিমেল মিয়া সৈয়দ আলী ও রেখা বেগম দম্পতির দ্বিতীয় ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। বড় ভাই এরশাদ আলী ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তৃতীয় ভাই রুবেল মিয়া সৌদি আরবে কর্মরত এবং ছোট ভাই সোহেল মিয়া নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, রিমেল স্থানীয় শোভাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২২ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুটি বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার পর বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতির কারণে আর পরীক্ষা সম্পন্ন করেননি। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতেই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

সম্প্রতি ইউক্রেনের একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে জুমের মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিমেল বলেন, ‘আমার পরিবার জানে না আমি কোথায় আছি, আমি বেঁচে আছি নাকি মারা গেছি। এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে অন্তত তারা জানতে পারবে আমি এখনো বেঁচে আছি।’

রিমেলের বাবা সৈয়দ আলী স্থানীয় শোভাগঞ্জ বাজারে একটি ছোট পানের দোকান চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। তিনি বলেন, ‘ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠাই। রাশিয়া যাওয়ার পর পাঁচ-ছয় মাস আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এরপর প্রায় ১১ মাস ধরে তার কোনো খোঁজ পাইনি। সে কেমন আছে, বেঁচে আছে কি না কিছুই জানতাম না। পত্রিকায় দেখে জানতে পারলাম আমার ছেলে জীবিত আছে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিমেলের মা রেখা বেগম বলেন, ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে প্রতিদিন আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে দোয়া করেছি। মনে হতো হয়তো আর কোনো দিন আমার ছেলেকে দেখতে পাব না। এখন জানতে পেরেছি সে বেঁচে আছে। আমি শুধু আমার ছেলেকে একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে চাই। সরকার যেন আমার ছেলেকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনে।

চাচাতো বোন সাবিনা আক্তার বলেন, রিমেল খুব শান্ত ও পরিশ্রমী ছেলে। পরিবারের কষ্ট দূর করতে বিদেশে গিয়েছিল। এতদিন কোনো খোঁজ না থাকায় আমরা সবাই ধরে নিয়েছিলাম সে হয়তো আর বেঁচে নেই। এখন জীবিত থাকার খবর শুনে স্বস্তি পেলেও তাকে দেশে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত আমাদের উদ্বেগ কাটবে না।

রিমেল জানান, রাশিয়ায় গিয়ে প্রথমে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে মাসে ৭০০ ডলার বেতনে কাজ শুরু করেন। পরে কাজ হারিয়ে বৈধভাবে থাকার উপায় খুঁজতে গিয়ে রুশ সেনাবাহিনীর চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিপত্রটি রুশ ভাষায় হওয়ায় তিনি সেটির কিছুই বুঝতে পারেননি। উচ্চ বেতন ও রাশিয়ার নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও মাত্র তিন দিনের প্রশিক্ষণের পর তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় এক মাস একটি বাঙ্কারে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস ও ইউক্রেনভিত্তিক ট্রুথ হাউন্ডসের তথ্য অনুযায়ী, কাজের প্রলোভনে রাশিয়ায় যাওয়া অনেক বাংলাদেশি পরে বিভিন্নভাবে রুশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে যুদ্ধে নিহত হয়েছেন, আবার কেউ যুদ্ধবন্দি হয়েছেন।

বর্তমানে ইউক্রেনের ডিটেনশন সেন্টারে থাকা রিমেলসহ তিন বাংলাদেশি যুদ্ধবন্দিই বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগে নিরাপদে দেশে ফিরতে চান। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছেন, রাশিয়ায় তাদের নামে জমা থাকা বেতন ও পাওনা অর্থও যেন যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি ও গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে সরকার’

জলবায়ু পরিবর্তন ‘নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে সরকার’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

দৌলতপুরে নদীভাঙন তীব্র, দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

দৌলতপুরে নদীভাঙন তীব্র, দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

আবারও সাফ সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন

আবারও সাফ সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App