ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলা
‘এককালীন ২ কোটি, মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের দাবি, ২ কোটি টাকা চাঁদার দাবি পূরণ না করায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুন অভিযোগ করেন, ঘটনার দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন পরিচয়ে এক ব্যক্তি তার কাছে ২ কোটি টাকা এককালীন এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে যান। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রিদোয়ানুল কবির বলেন, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি অস্ত্রধারী দল হঠাৎ অফিসে প্রবেশ করে কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। হামলার সময় কর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অফিসে প্রবেশ করে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে হামলা চালাচ্ছেন। একপর্যায়ে অফিসজুড়ে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনাও ফুটেজে ধরা পড়ে।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের দাবি, বিদেশে অবস্থানরত এক পলাতক ব্যক্তির অনুসারীরা এ হামলায় জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবির একাধিক অভিযোগ ওঠে। গত ৯ মে এক সাংবাদিককে চাঁদা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এছাড়া একই বছরের ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতে চকবাজার এলাকার একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিকের বাসভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনাগুলোর সঙ্গেও একই চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, মোবারক হোসেন ওরফে ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো যাচাই করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
