কমেছে বন্যার পানি, সামনে এখন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার লড়াই
মিজবাউল হক, চকরিয়া (কক্সবাজার)
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় দুই উপজেলার অধিকাংশ নদী ও ছড়ার পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে যাওয়ায় জনজীবনও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে কিছু নিম্নাঞ্চলে এখনো সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় সীমিতভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এদিকে পানি কমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্রও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক, মাছ চাষী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যায় হাজার হাজার একর আমনের বীজতলা, সবজিক্ষেত, মাছের ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচা ও আধাপাকা অসংখ্য বসতঘর ক্ষতির মুখে পড়েছে। গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো ব্যাহত রয়েছে।
বন্যার পানি কমে যাওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া অনেক পরিবার নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী এবং সামাজিক সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, কালভার্ট ও ঘরবাড়ি সংস্কারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে দেশের কোথাও যেন কোনো মানুষ না খেয়ে কষ্ট না পায়। সরকার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত খাদ্য ও আর্থিক মজুত রয়েছে।
জানা গেছে, বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ইতোমধ্যে চকরিয়া উপজেলার জন্য ১১৫ টন চাল ও সাড়ে ৬ লাখ টাকা এবং মাতামুহুরী উপজেলার জন্য ৪০টন চাল ও ৩লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানান, বরাদ্দকৃত অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা ও জরুরি মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
