কিসের হাসিনা! মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, "কিসের হাসিনা! তার চেহারা কী দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কি না। বাংলাদেশের মানুষ কখনোই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না।"
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি দেশের মানুষ আর গ্রহণ করবে না। তার দাবি, দলটি দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চায়। তাই কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত করার চেষ্টা সফল হবে না।
এর আগে সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) 'আবাসিক ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সেখানে তিনি কক্সবাজারের পর্যটন, সমুদ্রসম্পদ, নীল অর্থনীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রসম্পদ ও সমুদ্রবন্দর যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় সম্ভব। সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রকে শুধু যোগাযোগ বা পর্যটনের ক্ষেত্র হিসেবে না দেখে মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক গবেষণা, বন্দর, জ্বালানি, পর্যটনসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে জেলার অবদান আরও বাড়বে। একই সঙ্গে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃতিকে রক্ষা করেই পর্যটনের উন্নয়ন করতে হবে। শুধু বহুতল ভবন নির্মাণ করলেই পর্যটনের বিকাশ সম্ভব নয়। কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। বিশ্বব্যাপী কক্সবাজারের সৌন্দর্য তুলে ধরে পর্যটক আকর্ষণের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে পর্যটন সম্প্রসারণ করতে হবে।
পর্যটন উন্নয়নে পরিবেশগত বিধিনিষেধ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে বিভিন্ন এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এসব এলাকার বাস্তব অবস্থা যাচাই করে জরিপের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোথায় এবং কীভাবে পর্যটনের বিকাশ ঘটানো যাবে, তা বাস্তবতা ও বৈজ্ঞানিক জরিপের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা উচিত।
কক্সবাজারে সামুদ্রিক শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়াতে একটি মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতির বিকাশে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
পরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যার নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্নাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন ভবন নির্মাণ শেষ হলে কক্সবাজারে চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়বে। এতে জেলার বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটক ও সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
