হোটেলকক্ষে পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ, রক্তাক্ত স্ত্রী ও শিশুকন্যা উদ্ধার
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মীরসরাইয়ে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম (৩২) নামের এক উপ-সহকারি (এএসআই) পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় কক্ষের ভেতর থেকে তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (২৪) কে রক্তাক্ত অবস্থায় ও তাদের ১০ মাস বয়সী ফাতিহা আক্তার নামে একটি কন্যা সন্তানকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের হোটেল রিলেক্স জোনের ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকে পুলিশ কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত আমিনুল ইসলাম উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মাস্টার বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে।
তিনি বাংলাদেশ পুলিশের রাঙ্গামাটি পুলিশ লাইনের এএসআই পদে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার উপজেলার হাজীশ্বরাই এলাকার বাসিন্দা। ১০ মাস বয়সী ফাতিহা আক্তার নামে তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আমিনুল ইসলাম ও তার স্ত্রী রোববার দুপুর ২টার দিকে হোটেলে আসেন এবং ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। পরের দিন সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় দায়িত্বরত ম্যানেজার বার বার ডাকার পরও কোন সাড়াশব্দ পাননি। দীর্ঘক্ষণ পর ভেতর থেকে তার স্ত্রী দরজা খুলে দেন। কক্ষের ভেতর খাটের পাশে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বামীকে দেখতে পাওয়া যায়।
হোটেল ম্যানেজার সোহান বলেন, তারা রোববার দুপুরে ভাড়া নেয়ার পর বিকেলে ও রাতে দুবার বের হন। রাতে আমি আমার রুমে শুয়ে পড়ি এরপর কোন ধরনের সাড়াশব্দ শুনিনি। সকালে আমি ডাকাডাকির পর শব্দ না পেয়ে থানায় খবর দিই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন বলেন, তাহমিনা আক্তার নামে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিলো। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (মীরসরাই সার্কেল) নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম হোটেলে এসে ঝুলন্ত অবস্থায় আমিনুল ইসলামের লাশ পাওয়া যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমরা লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি। নিহত পুলিশ কর্মকর্তা রাঙ্গামাটি পুলিশ লাইনের এএসআই পদে কর্মরত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহ থেকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
