‘মদিনার পবিত্রতা-নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না’
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র মদিনা মুনাওয়ারায় মসজিদে নববী (সা.)-কে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগে গভীর ক্ষোভ, তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ এবং যেকোনো অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.)।
এক প্রতিবাদবাণীতে তিনি বলেন, মসজিদে নববী (সা.)-এর সেবাদানকারী একটি বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। যে উদ্দেশ্যেই এ ধরনের হামলা সংঘটিত হয়ে থাকুক, পবিত্র মদিনার নিরাপত্তা এবং মসজিদে নববীর সেবাব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলার যেকোনো প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। হারামাইন শরীফাইনের পবিত্রতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে মুসলমানদের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যাবে না।
সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন বিষয়ক জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে ড্রোন হামলা হয়। ওই কেন্দ্রটি মসজিদে নববী (সা.)-এ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। জোটের দাবি, তদন্ত ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষার ভিত্তিতে হামলায় হুথি মিলিশিয়ার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়েছে।
ছারছীনার পীর ছাহেব আরও বলেন, “পবিত্র মক্কা ও মদিনা মুনাওয়ারার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যে কোনো প্রচেষ্টা গোটা মুসলিম উম্মাহর জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এখানে কোনো যুদ্ধ, রাজনৈতিক সংঘাত কিংবা প্রতিহিংসার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না। এ ধরনের দুঃসাহস, অপতৎপরতা বা উসকানি মুসলিম উম্মাহ কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। হারামাইন শরীফাইনের প্রতি সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু সৌদি আরবের বিষয় নয়; এটি বিশ্বের প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়ের দাবি।
তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেন, “পবিত্র স্থানসমূহকে সংঘাতের রাজনীতি ও সামরিক কর্মকাণ্ডের আওতায় আনার অপচেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। মক্কা-মদিনার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, উসকানি কিংবা দুঃসাহসের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে।
তিনি সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মদীনা মুনাওয়ারার নিরাপত্তা ও পবিত্রতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ, ওলামায়ে কেরাম এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
