আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন
উঁচু ওভারব্রিজে যাত্রীদের ভোগান্তি, র্যাম্প সিঁড়ি নির্মাণের দাবি
বাদল আহাম্মদ খান, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া। প্রতিদিন এ স্টেশন দিয়ে ৪২ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। হাজার হাজার যাত্রী এ স্টেশন ব্যবহার করে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। তবে এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে যাতায়াতের জন্য নির্মিত উঁচু ওভারব্রিজটি যাত্রীদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাতায়াতের জন্য ওভারব্রিজটি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু এতে ওঠানামার জন্য কোনো র্যাম্প সিঁড়ি বা বিকল্প ব্যবস্থা নেই। ফলে ভারী মালপত্র বহনকারী যাত্রী, বৃদ্ধ, নারী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ওভারব্রিজ পার হতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বিশেষ করে অসুস্থ রোগী নিয়ে এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে যেতে হলে স্বজনদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। অনেককে ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। মাঝপথে ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নিয়ে আবার উঠতে দেখা যায়। ভারী ব্যাগ ও লাগেজ বহনকারী যাত্রীদের দুর্ভোগও বেশি।
আরও পড়ুন: লুঙ্গি খুলে হল ঘোরানোর হুমকি, কুবিতে রাতভর র্যাগিংয়ের অভিযোগ
জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আখাউড়া-লাকসাম রেলপথ ও সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোর উন্নয়নকাজ করা হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন স্টেশনে ওভারব্রিজ নির্মাণের পাশাপাশি যাত্রীদের সুবিধার্থে এক পাশে র্যাম্প সিঁড়ির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে আখাউড়া জংশন স্টেশনের ওভারব্রিজে এ ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
ভোগান্তির কারণে অনেক যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে রেললাইনের ওপর দিয়ে এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে যাতায়াত করেন। এতে যেকোনো সময় ট্রেনের ধাক্কায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
ট্রেনযাত্রী আমিনুর রহমান বলেন, আখাউড়া জংশন দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু ওভারব্রিজটি অনেক উঁচু ও দীর্ঘ। র্যাম্প সিঁড়ি না থাকায় ওঠানামা করতে অনেক কষ্ট হয়। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের জন্য বিষয়টি আরও কষ্টকর।
বিদেশগামী এক যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, সঙ্গে অনেক ভারী লাগেজ রয়েছে। এত উঁচু সিঁড়ি দিয়ে ওঠা খুব কষ্টকর। বাধ্য হয়ে রেললাইনের ওপর দিয়ে এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে যেতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।
তারাগন গ্রামের বাসিন্দা সালাউদ্দিন ভূইয়া বলেন, এত বড় একটি স্টেশন, অথচ এখানে যাত্রীদের অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। বিশেষ করে এই উঁচু ওভারব্রিজ দিয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। এখানে একটি সমতল র্যাম্প সিঁড়ি নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী যাত্রী বলেন, ওভারব্রিজটি অনেক উঁচু। মহিলাদের ভারী ব্যাগ নিয়ে ওঠানামা করতে কষ্ট হয়। এখানে র্যাম্প সিঁড়ি বা চলন্ত সিঁড়ির ব্যবস্থা থাকলে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য অনেক সুবিধা হতো।
যাত্রীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই জংশন স্টেশনে ওভারব্রিজের সঙ্গে দ্রুত র্যাম্প সিঁড়ি নির্মাণ করা হোক। পাশাপাশি সম্ভব হলে চলন্ত সিঁড়ি বা লিফট স্থাপন করা হলে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে রেললাইনের ওপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার বন্ধ করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনা করে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে র্যাম্প সিঁড়ি নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছেন নিয়মিত ট্রেনযাত্রীরা।
