প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগে বড় সুখবর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদ পূরণের উদ্যোগে অগ্রগতি হয়েছে। শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মাঠপর্যায়ে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেডেশন তালিকা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তালিকা প্রস্তুত হওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করা হবে। এ সময় কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সেগুলোও নিষ্পত্তি করা হবে। পরে সংশোধিত তালিকা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হবে।
পিএসসির অনুমোদন পাওয়ার পর সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় আগামী তিন মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
আরও পড়ুন: মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, কারণ জানাল পররাষ্ট্র দপ্তর
অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি নিয়ে যে মামলাজনিত জটিলতা ছিল, তা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন মাঠপর্যায়ে পদোন্নতির জন্য গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাকি কার্যক্রমও দ্রুত শেষ করা হবে।
যে মামলায় আটকে ছিল পদোন্নতি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান শিক্ষক পদে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শূন্যতা রয়েছে। পদগুলো খালি থাকলেও বড় পরিসরে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এর মূল কারণ ছিল জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে তৈরি আইনি জটিলতা।
২০১৩ সালে দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর তাদের চাকরির মেয়াদ, জ্যেষ্ঠতা এবং পদোন্নতি কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এ-সংক্রান্ত বিধিমালায় জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির বিধান চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করা হয়।
আরও পড়ুন: ডনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অপেক্ষায় সিআইডি
মামলার কারণে কোন শিক্ষক জ্যেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং সেই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কারা প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়াও দীর্ঘদিন আটকে থাকে।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চলতি বছরের ২ জুলাই আপিল বিভাগ জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিধানের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন। এর ফলে হাইকোর্টের আগের রায়ের কারণে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার অবসান হয় এবং প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
