‘ফ্যাসিষ্ট সরকারের ১৭ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল’
বাদল আহাম্মদ খান, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
‘আমরা জানি, তারা দেশটা কোথায় রেখে গিয়েছিল। বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় আখাউড়া উপজেলা মিলনায়তনে রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা জানি, কী ধরনের পরিবেশের মধ্যে আমাদের ছেলেমেয়েরা এত সুন্দর ও ভালো ফলাফল করেছে। আমি চাই, তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল করুক। আখাউড়ার ফলাফল এখনো ভালো নয়। জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও তেমন সন্তোষজনক নয়। আমাদের আরও ভালো করতে হবে।’
আরও পড়ুন: ধানখেতের পাশে তিন বস্তা, খুলতেই মিলল ছয় টুকরো লাশ
শিক্ষাব্যবস্থার অতীত পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগে শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষা দিলেই ৯৫ শতাংশ নম্বর পাওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল। এখন আর সেটা হবে না। আমাদের সময়ে নকল ছিল না। লেখাপড়া করে পরীক্ষা দিতে হতো।’
তিনি আরও বলেন, অতীতে পাসের হার ৯০ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী বাস্তব দক্ষতায় পিছিয়ে ছিল। চাকরির পরীক্ষায় গিয়ে অনেকে লিখতেও পারত না। এমন দৃষ্টান্তও আছে, এমএ পাস করেও কেউ ব্রাহ্মণবাড়িয়া বানান লিখতে পারে না।

মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘এ রকম শিক্ষার পরিবেশ আর থাকবে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি সরকারের নীতি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা। সে কারণে যারা শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসছেন, তাদের আমরা স্বাগত জানাই।’
কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি মাদক থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি অযথা সময় নষ্ট না করে পড়ালেখায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠানে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় ২০২৬ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া ৪১ কৃতি শিক্ষার্থী এবং প্রাথমিক বৃত্তি অর্জনকারী ১২৬ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি মুশফিকুর রহমান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি নাছির উদ্দিন হাজারী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হোসেন খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মুনসুর মিশন, সদস্য খন্দকার বিল্লাল হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুন হোসেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ডঃ দৌলত হোসেনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান।
