কারাগারে সাবেক এমপি চালাচ্ছিলেন মোবাইল, মিলল ডজন ডজন পর্নো ভিডিও
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ভারতের সাবেক সংসদ সদস্য প্রজ্বল রেভান্নার কারাগারের সেল থেকে মোবাইল ফোনসহ কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। জব্দ করা মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় কয়েক ডজন পর্নোগ্রাফিক ভিডিও পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে একটি পেনড্রাইভে একাধিক ওয়েব সিরিজও মিলেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
জনতা দল (সেক্যুলার)-এর সাবেক এই সংসদ সদস্য বর্তমানে বেঙ্গালুরুর পারাপ্পানা অগ্রহারা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। গত ১১ আগস্ট কারাগারে আকস্মিক অভিযান চালায় ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি বিশেষ দল। এ সময় উচ্চনিরাপত্তার ব্যারাকে থাকা রেভান্নাকে নিজের সেলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখেন কর্মকর্তারা।
পরে তার সেলে তল্লাশি চালিয়ে একটি মোবাইল ফোন, চার্জার, পেনড্রাইভ ও একটি নোটবুক জব্দ করা হয়। এসব ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হলে মোবাইল ফোনে ডজনখানেক পর্নোগ্রাফিক ভিডিও থাকার তথ্য উঠে আসে। পেনড্রাইভে পাওয়া যায় একাধিক ওয়েব সিরিজ।
কারাগারের ভেতরে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড কিংবা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক যোগাযোগের ডিভাইস ব্যবহারের অনুমতি নেই। বন্দীদের বাইরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নির্ধারিত ল্যান্ডলাইন, পাবলিক কল অফিস (পিসিও) অথবা অনুমোদিত ভিডিও কলিং ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে।
রেভান্নার সেল থেকে ব্যক্তিগত মোবাইলসহ এসব ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনায় কারাগারে বিশেষ সুবিধা পাওয়া ‘ভিআইপি’ বন্দীদের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক কারা কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্বল রেভান্না ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়ার নাতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীর ভাতিজা। ৪৮ বছর বয়সী এই সাবেক এমপি একটি ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হাসান জেলার হোলেনারাসিপুরায় রেভান্না পরিবারের একটি ফার্মহাউসে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এক নারী। তার অভিযোগ ছিল, ২০২১ সাল থেকে প্রজ্বল রেভান্না তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখেন। বিষয়টি প্রকাশ করলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
পরে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি আদালতে গড়ায়। বিচার শেষে রেভান্নাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে সেই সাজাই ভোগ করছেন তিনি।
