জ্বালানি সংকট সমাধানে বিরোধী দলের প্রস্তাব নেয়নি সরকার: জামায়াত আমির
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব সরকার গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের শিল্প খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। সংকট শুরু হওয়ার পর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সরকার এর বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। দেশে ও বিদেশে এ খাতে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত ওই টিম সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিল। তবে সরকার সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এর ফলে জ্বালানির সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে ছয় মাস কেটে গেছে। একটি দেশের ইতিহাসে ছয় মাস খুব কম সময় নয়। এই সময়ের মধ্যেই সরকারের বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে বের করা প্রয়োজন ছিল।
জামায়াত আমির বলেন, বিরোধী দল বারবার সরকারকে সহযোগিতার আগ্রহ জানিয়েছে। সর্বশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বরও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারকে জানানো হয়েছিল, জ্বালানি খাতে দেশে ও বিদেশে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তাদের একটি টিম রয়েছে। সুযোগ দিলে সেই টিমকে সরকারের সহযোগিতায় কাজে লাগানো হবে।
তিনি বলেন, দেশের স্বার্থেই বিরোধী দল এ প্রস্তাব দিয়েছিল। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে বিরোধী দল এভাবে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে কি না, তা তার জানা নেই।
ডা. শফিকুর রহমানের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না। বিরোধী দল সহযোগিতার চেষ্টা করলেও তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলো লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুরুতে সরকার এ সংকটের বিষয়টিও অস্বীকার করেছিল। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দেশের অর্থনীতি এবং শিল্প খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তারা রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। এর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বগুড়া উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একসময় জেলাটিকে ‘মিনি শিল্পনগরী’ বলা হতো। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বগুড়ায় প্রত্যাশিত শিল্পায়ন হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বগুড়া শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত হলেও সে অনুযায়ী জেলার উন্নয়ন হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সড়কের বেহাল অবস্থা রয়েছে। শিল্প, শিক্ষা ও যোগাযোগ- কোনো ক্ষেত্রেই বগুড়া তার সম্ভাবনার পূর্ণ সুফল পাচ্ছে না।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
