নোয়াখালীতে প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা, কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীতে সাউথ আফ্রিকা প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মোরশেদ আলম রিয়াদ নামে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। রিয়াদ ব্যবসায় অংশীদার করা, বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানো এবং নানা সুযোগ-সুবিধার কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার পর তা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রবাসীরা।
শনিবার দুপুরে নোয়াখালী জেলা শহরে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্ত মোরশেদ আলম রিয়াদ নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ এলাকার আবদুল ওদুদ বকুলের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী ফিরোজ উদ্দিন সুমন, নজরুল ইসলাম, আবদুল মতিন, জাহাঙ্গীর আলম ও স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান জুয়েল। এ সময় রিয়াদের বিরুদ্ধে প্রতারণার শিকার হয়েছেন দাবি করা অন্তত ১৫ জন সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মোরশেদ আলম রিয়াদ প্রায় ১৩ বছর সাউথ আফ্রিকায় প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। সেখানে অবস্থানকালে কখনো ব্যবসায় অংশীদার করার কথা বলে, আবার কখনো সাউথ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর কথা বলে প্রবাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেন। পরে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না করে এসব অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ তাদের।
এমনকি সাউথ আফ্রিকায় এক প্রবাসী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিক্রির প্রায় ২৮ লাখ টাকা রিয়াদ আত্মসাৎ করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, রিয়াদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আরও বহু প্রবাসী। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বিদেশে কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করে অনেকে এখন আর্থিক সংকটে পড়েছেন, কেউ কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
এদিকে দেশে ফিরে রিয়াদ স্থানীয় এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের একটি গ্রুপ তৈরি করে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে হুমকি, অপপ্রচার এবং মামলা-হামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ নিয়ে প্রতারণার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মোরশেদ আলম রিয়াদকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান ভুক্তভোগী প্রবাসী ও এলাকাবাসী।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মোরশেদ আলম রিয়াদের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। যার করণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
