ভোট কেনা ও ভয়ভীতি দেখানোর সময় আটক ডিআইজির ভাগ্নে
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৪, ০২:০১ পিএম
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রাজ্জাকের পক্ষে টাকা বিতরণকালে এক ব্যক্তি আটক। ছবি: ভোরের কাগজ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রাজ্জাকের পক্ষে টাকা বিতরণকালে সাইদুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন গ্রামবাসী। ওই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রার্থী রাজ্জাক পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল বাতেনের বড় ভাই।
মঙ্গলবার (৪ জুন) মধ্যরাতে উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক পুলিশ সদস্য ময়মনসিংহ পুলিশ রেঞ্জের উপপরিদর্শক (এসআই) পদে কর্মরত। আটকের পর তিনি নিজেকে ডিআইজি বাতেনের ভাগ্নে দাবি করেন। এ নিয়ে এলাকায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া বলেন, আমরা বসে ছিলাম। হঠাৎ দেখি লাল গেঞ্জি পরা লোকটা মানুষকে ডেকে নিয়ে কথা বলছে। পরে টাকা দিচ্ছে। আমি মেম্বারকে বিষয়টি দেখালে তারা মেম্বারের সঙ্গে তর্ক করে এবং ছবি তুলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরে আমরা তাকে আটক করলে পুলিশকে খবর দিব জানালে জানান তিনি নিজেই পুলিশ!’
স্থানীয় ইউপি সদস্য নূর মিয়া বলেন, তারা ৬–৭ দিন ধরে এলাকায় ঘোরাঘুরি করছে। কিন্তু আজকে বেশি করে ফেলেছে। আড়ালে গিয়ে মানুষকে রাতের অন্ধকারে টাকা দিচ্ছে। আমি প্রতিবাদ করায় আমার ছবি তোলে এবং আমাকে নির্বাচনের পর দেখে নিবে বলে হুমকি দেয়। ওই সময় আমার সঙ্গে তর্কাতর্কি লেগে গেলে গ্রামবাসীরা তাদের আটক করে। পরে মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেবের হস্তক্ষেপে তিনি ছাড়া পেয়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরান হোসেন জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য আমাকে বিষয়টি জানালে আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে আটক সাইদুরকে দ্রুত ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিলে তিনি চলে যান।সহকারী রিটার্নিং অফিসার উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা (ইউএনও) অতীশ দর্শী চাকমার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, আব্দুর রাজ্জাককে নির্বাচিত করতে পুলিশবাহিনীকে দিয়ে প্রভাব বিস্তার ও ভোটারদের মাঝে ভয়ভীতি সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, এ উপজেলার বাসিন্দা দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত পুলিশ বাহিনীর অর্ধশতাধিক সদস্য একযোগে ছুটিতে এসে প্রার্থীর পক্ষে নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা এবং সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
