প্রবাসী নারীর লিখিত অভিযোগ
জমি আত্মসাৎ করতে মামলায় সহায়তা করেছে তিন পুলিশ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তরা জোন ও পশ্চিম থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা মামলা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জিনাত রিজওয়ানা নামে এক প্রবাসী নারী। বাংলাদেশে তার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একাধিক আওয়ামী লীগ নেতার প্ররোচনায় পুলিশ তাকে হয়রানি করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পুলিশ মহাপরিদর্শক ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে করা পৃথক লিখিত অভিযোগে তিনি এসব উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, হবিগঞ্জের ৭৫০ শতাংশ জমি দখল করে আত্নসাতের উদ্দেশ্যে ফেনীর সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও তার ভাই জামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ২০২২ সাল থেকে তাকে নানাভাবে হয়রানি করেছেন।
জিনাত রিজওয়ানার অভিযোগ, ঢাকার উত্তরা এবং সিলেটে তার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ রয়েছে। ঢাকার উত্তরা এলাকার তিনি একজন অন্যতম শীর্ষ করদাতা। যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও ব্যবসায়িক কাজে তিনি নিয়মিত দেশে আসা যাওয়া করেন। বিদেশে থাকায় একাধিক চক্র তার ব্যবসা ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেছে বিভিন্ন সময়। না পেরে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে।
আরো পড়ুন: নানকের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার খবরে সীমান্তে পাহারা-তল্লাশি
এর মধ্যে ২০২২ সালের ৫ জুন উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাজানো মামলা করা হয়। ৬ জুন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসার পর ২৫ জুন ব্যক্তিগত কাজে ভারতে যান এবং ২৮ জুন দেশে ফিরলে বিমানবন্দর থেকে ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একদিন থানা হাজতে রেখে নির্যাতনের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানা হয়।
তার দাবি, পুলিশ কর্তৃক তিনি অহেতুক হয়রানির শিকার হয়েছেন। পুলিশ হেফাজতে রেখে তার ছবি তুলে সেই ছবি ব্যবহার করে জামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী পোষ্টার ছাপিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে লাগিয়ে অপপ্রচার করেন। হবিগঞ্জ এলাকার ৭৫০ শতাংশ জমি আত্নসাতের উদ্দেশ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয় বলেও দাবি করেছেন রিজওয়ানা।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, আওয়ামী লীগ নেতা জামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ডিএমপির উত্তরা জোনের তৎকালীন উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম, উত্তরা পশ্চিম থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ শাহ্ মো. আকতারুজ্জামান ইলিয়াস এবং উত্তরা পশ্চিম থানার তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর মোসা. মাসুদা খাতুনের মাধ্যমে তাকে হয়রানি ও নির্যাতন করেছেন। উক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কাছেও লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, উক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা বর্তমানে দেশের বিভিন্নস্থানে কর্মরত থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। জামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর একাধিক মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে বন্ধ পাওয়া গেছে।
