মাওলানা ফারুকী হত্যা মামলায় ৬ আসামির বিচার শুরু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
ফাইল ছবি
এক যুগেরও বেশি সময় আগে ইসলামী ফ্রন্টের নেতা ও টেলিভিশনে ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা ও ডাকাতির মামলায় ছয় আসামির বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শহিদুল ইসলাম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য আগামী ৬ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার এ তথ্য জানান।
অভিযোগ গঠন হওয়া ছয় আসামি হলেন–আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার ওরফে রিয়াজ ওরফে রিপন, আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী, হাদিসুর রহমান সাগর, মাহমুদ ইবনে বাশার ও রফিকুল ইসলাম ফারদীন।
আসামিদের মধ্যে জামিনে থাকা নাহিদ, রিপন ও হাদী আদালতে হাজির ছিলেন। তাদের পক্ষে আইনজীবী জায়েদুর রহমানসহ কয়েকজন আইনজীবী অব্যাহতির আবেদন করেন। কারাগারে থাকা সাগরকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়। অন্যদিকে বাশার ও ফারদীন পলাতক রয়েছেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট রাত ৯টার দিকে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে নিজ বাসায় নুরুল ইসলাম ফারুকীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই রাতেই পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকী শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফারুকীর বাসার কলিং বেল চাপ দেয় দুর্বৃত্তরা। দরজা খুললে দুজন বাসায় প্রবেশ করে তার সঙ্গে বসার ঘরে কথা বলতে বসে। কিছুক্ষণ পর আরও ছয় থেকে সাতজন সেখানে আসে।
বসার ঘরে পর্যাপ্ত চেয়ার না থাকায় ফয়সাল ফারুকীর মামাতো ভাই মারুফ হোসেন ভেতর থেকে চেয়ার আনতে যান। ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, দুর্বৃত্তরা নুরুল ইসলাম ফারুকীর মাথায় পিস্তল ও চাপাতি ঠেকিয়ে রেখেছে।
পরে বাসার লোকজনকে বেঁধে ফারুকীকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বাসা থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও ক্যামেরা লুট করে নিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ বছর পর ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগ আনা হয়।
