শিশু অপহরণের পর হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড
সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে অপহরণের পর হত্যা এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ন. ম. ইলিয়াস এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সখীপুর উপজেলার উত্তর দাড়িয়াপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে সাব্বির মিয়া (২১)।
টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দীপু জানান, নিহত সামিয়া আক্তার (৯) সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের রঞ্জু মিয়ার মেয়ে এবং দাড়িয়াপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী জানা যায়, ২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে সামিয়া প্রাইভেট পড়তে বাড়ি থেকে বের হয়। ফেরার পথে সাব্বির তাকে অপহরণ করে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে সামিয়া চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পাশের একটি ধানক্ষেতের ড্রেনে কাদামাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
ঘটনার পর নিজের পরিচয় গোপন রেখে একটি ইমু আইডি ব্যবহার করে ভয়েস বার্তার মাধ্যমে সামিয়ার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসামি।
পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সামিয়ার বাবা রঞ্জু মিয়া সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার একদিন পর পুলিশ ধানক্ষেতের ড্রেন থেকে সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
রায়ে আদালত শিশু সামিয়াকে হত্যার দায়ে সাব্বিরকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া অপহরণের দায়ে ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুকে আটক রাখার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা ও মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে ফেলার দায়ে আরও পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (স্টেট ডিফেন্স)। আসামির উপস্থিতিতেই বিচারক রায় ঘোষণা করেন। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
