বাবার কেনা জমিতে মায়ের দাফনে বাধা, শেষ ঠিকানা খাস জমিতে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবার কেনা জমিতে মায়ের মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে প্রায় ১৯ ঘণ্টা অপেক্ষার পর বাড়ির পাশে সরকারি খাস জমিতে মরদেহ দাফন করেন ছেলে ও স্বজনেরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে।
বুধবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশের সরকারি খাস জমিতে শ্রী মেনোকা (৬০) নামের ওই নারীকে দাফন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ছেলে সুনীল চন্দ্র বর্মণ।
আরও পড়ুন: চাকরি গেল বিপ্লব কুমার ও রুহানীসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা
শ্রী মেনোকা মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামের শ্রী গোপালের স্ত্রী। মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তিনি আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসিন্দা ছিলেন।
সুনীল চন্দ্র বর্মণ জানান, প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে সফির উদ্দিনের কাছ থেকে তার বাবা এক শতাংশ জমি কেনেন। তবে জমিটি সাব-কবলা দলিল করে দেওয়া হয়নি। মেনোকার মৃত্যুর পর ওই জমিতে দাফনের উদ্যোগ নিলে সফির উদ্দিন এতে বাধা দেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার আলোচনা করলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর বুধবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশের সরকারি খাস জমিতে মেনোকার মরদেহ দাফন করা হয়।
আরও পড়ুন: শয়নকক্ষে বিষধর কালাচ সাপ, বস্তাবন্দি করে রাখলেন যুবক
সুনীল আরও জানান, মেনোকা তার সৎ মা। তার বাবা শ্রী গোপাল দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে দ্বিতীয় স্ত্রী মেনোকা ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় সফির উদ্দিনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি কেনেন তিনি। মিউটেশন বা খারিজসংক্রান্ত জটিলতার কারণে জমিটি রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে জমির মূল্য পরিশোধ করা হয়েছিল। তবে শ্রী গোপাল মারা যাওয়ার পর থেকে বিক্রেতা সফির উদ্দিন জমি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করছেন। মেনোকার মরদেহ ওই জমিতে দাফনের চেষ্টা করা হলে তিনি বাধা দেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ চেষ্টা করেও সেখানে দাফন করতে পারেননি।
মেনোকার ভাই নিধারণ বলেন, তার বাবা জীবিত থাকতেই এক শতাংশ জমি কিনেছিলেন। ওই জমিতে মেনোকার মরদেহ দাফনের জন্য জায়গা খনন করতে গেলে সফির উদ্দিন, তার স্ত্রী ও সন্তানরা লাঠি নিয়ে এসে বাধা দেন। জমি কেনার দাবি করেও সেখানে মায়ের মরদেহ দাফন করতে না পারায় তাদের আক্ষেপ থেকে গেছে। স্বজনদের কেউ মারা গেলে দাফনের জন্য তাদের নিজস্ব জায়গাও নেই বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে বৈঠক ডেকেছেন তারেক রহমান
অভিযোগের বিষয়ে সফির উদ্দিন বলেন, তিনি তার জমিতে আদিবাসী (মান্দাই) ওই নারীকে দাফন করতে দেবেন না। তাদের কাছে কোনো জমি বিক্রি করেননি এবং কোনো টাকাও নেননি বলে দাবি করেন তিনি।
মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বলেন, সফির উদ্দিনকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে ওই বৃদ্ধাকে বাবার কেনা জমিতে দাফন করা সম্ভব হয়নি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ ওই ব্যক্তিকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি দাফনে সম্মতি দেননি। পরে নিহতের স্বজনেরা সরকারি খাস জমিতে মেনোকাকে দাফন করেন।
