লোডশেডিং নিয়ে ভিডিও বার্তা, চাকরি খোয়ালেন পল্লী বিদ্যুৎকর্মী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
পল্লী বিদ্যুতের সেই কর্মী সুমন হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি সারাদেশে চলছে তীব্র লোডশেডিং। আর এই লোডশেডিং ও গ্রাহকদের দুর্ভোগের চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তুলে ধরেন পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মী। তিনি এ সম্পর্কিত ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। সেই ভিডিওই শেষ পর্যন্ত তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিডিও প্রকাশের কারণে চাকরি হারিয়েছেন মাদারীপুর সদরের বাহাদুরপুর ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুতের সেই কর্মী সুমন হোসেন।
গত বুধবার (১২ আগস্ট) তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তিনি মিঠাপুর জোনের লাইনম্যান পদে কর্মরত ছিলেন।
সুমন হোসেন তার ‘বিদ্যুৎ প্রতিদিন’ পেজ থেকে বিভিন্ন সময় দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও লোডশেডিং নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন।
তার দাবি, গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার পাশাপাশি কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
তবে তার প্রকাশ করা ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে বিষয়টি পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপর তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
চাকরি হারানোর পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জেলা পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সুশান্ত রায়ের কাছে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন সুমন হোসেন।
আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকট কাটাতে অবকাঠামো উন্নয়নে সময় দিতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
তার দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মীদের ওপর হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। মিঠাপুরেও যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে চিন্তা থেকেই তিনি ভিডিও করেছিলেন।
সুমন বলেন, ‘আমি অফিসের কথা ভেবেই ভিডিওটি করেছিলাম। সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতি বোঝানো এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু বিষয়টি এত দূর গড়াবে, সত্যিই বুঝতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার একটি ভিডিও আমি, আমার পরিবার ও কর্মস্থলের জন্য এত বড় সমস্যার কারণ হবে, তা ভাবিনি। আমার কথা বা কাজে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত।’
ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যুৎসংক্রান্ত কোনো ভিডিও বা পোস্ট প্রকাশ করবেন না বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমি আর কোনো দিন বিদ্যুৎ বিষয়ে কোনো পোস্ট বা ভিডিও আপলোড করব না। সবাই আমার ও আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।’
এ ঘটনায় মাদারীপুরে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের দুর্ভোগের বিষয়টি সামনে এসেছে নতুন করে। তীব্র গরমের মধ্যে দিনের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের কাজেও এর প্রভাব পড়ছে।
মিঠাপুর এলাকার বাসিন্দা বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে কখন ফিরবে বোঝা যায় না। গরমের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় শিশু ও বয়স্কদের। দোকানপাটেও কাজের সমস্যা হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার সময় রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। লোডশেডিংয়ের সময়সূচি আগে জানা গেলে অন্তত পড়াশোনার সময়টা পরিকল্পনা করা যায়।
পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার সুশান্ত রায় গণমাধ্যমকে বলেন, সুমন হোসেন মিঠাপুর জোনে লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। লোডশেডিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এসব ভিডিওকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগ ওঠায় তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
