মামলায় হেরে সাবেক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, স্থানীয়দের ক্ষোভ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাবেক সেনাসদস্য আরজু খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলায় হেরে গিয়ে তার বিরুদ্ধে অপবাদ ও কুৎসা রটানোর প্রতিবাদে হেলাল উদ্দিন সাধির ও শাহীনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে উপজেলার নিয়ামতপুর রৌহা গোলচত্বরের পাশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে শত শত মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. হেলাল উদ্দিন, মো. শাহাবুদ্দিন, মো. রিটন, মো. হারুন ও হোসাইনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ১৯৬৬ সালে আরজু খান শিশু থাকা অবস্থায় স্থানীয় কালু মিয়া তার জমি জোরপূর্বক দখল করে নেন। পরে আরজু খানের দুই চাচা আ. ওয়াদুদ খান ও আ. রাজ্জাক খান বাদী হয়ে ফজলু সোবহান ফকির, কালু মিয়া ও সৈয়দ মর্তুজ রহমানকে বিবাদী করে একটি মোকদ্দমা দায়ের করেন। ১৯৭২ সালে আদালত আরজু খানের পক্ষে ডিক্রি দেন।
আরও পড়ুন: জামায়াতের তুলনায় আওয়ামী লীগের অপরাধ লঘুই বলা যায়: রাশেদ খান
বক্তারা বলেন, আদালতের রায় সত্ত্বেও কালু মিয়া বাড়ির দখল না ছাড়ায় ১৯৮২ সালে আরজু খান সামরিক আদালতে (কোর্ট মার্শাল) উচ্ছেদ মোকাদ্দমা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মার্শাল কোর্টের মাধ্যমে কালু মিয়া না-দাবি দলিলের মাধ্যমে জমি হস্তান্তর করেন। বিরোধের সমাধানের পর ১৯৮৭ সালে তিনি নিজ বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে মারা যান বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার ২৬ বছর পর ২০১৩ সালে কালু মিয়ার ছেলে হেলাল উদ্দিন সাধির উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আরজু খানকে একক আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। পরে সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকায় ২০১৪ সালে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১২ বছর পর ওই মামলায় হেরে যাওয়ার ক্ষোভে আরজু খানের সম্মানহানি ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি ফাঁসির দাবিতে একটি মানববন্ধন করা হয়েছে। এতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয়দের নামও ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এলাকাবাসী দাবি করেন, কালু মিয়া নিজ বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন, যা গ্রামের সবাই জানেন। তার মৃত্যুর সময় শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্নও ছিল না। কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটলে সাধারণত এলাকায় ব্যাপক হৈচৈ সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু কালু মিয়ার মৃত্যুর ক্ষেত্রে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। স্বাভাবিকভাবেই তাকে গ্রামবাসী স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, আরজু খান শিশু থাকা অবস্থায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে যে বিরোধের সূত্রপাত। তার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় হত্যা মামলাটি খারিজ হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কালু মিয়ার ছেলে হেলাল উদ্দিন সাধিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ছেলে রিয়ানের দাবি, আরজু খান জাতীয় পার্টির সমর্থক হওয়ায় অতীতে ক্ষমতার প্রভাবে তারা ন্যায়বিচার পাননি। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই ২০১৩ সালের মামলাটি আদালত খারিজ করে দিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোয়েব খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি মানবন্ধন করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।
