আ.লীগ থেকে বিএনপি, বদলেছে সঙ্গী; মানিকের ‘মাটি বাণিজ্য’ চলছে আগের মতোই
সুরেশ চন্দ্র রায়, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
শোলধারা এলাকার ইছামতী নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরি ইউনিয়নের শোলধারা ভোর বাজারের পাশে প্রবাহিত ইছামতি নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে আসছেন প্রভাবশালী ড্রেজার ব্যবসায়ী মানিক। রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলেও মানিকের ড্রেজার বাণিজ্য অপরিবর্তনীয় বলে জানান স্থানীয়রা।
মাসখানেক পূর্বে ঘিওর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শোলধারা এলাকার ইছামতী নদীতে চলমান ড্রেজারে অভিযান চালিয়ে তার কার্যক্রম বন্ধ করার চেষ্টা করলেও, রাজনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে তিনি পুনরায় অবাধে এই নদীর মাটি বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয সুত্রে জানা যায়, আওয়ামী শাসনামলে মানিক ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে সাথে নিয়ে ড্রেজার ব্যবসা করতেন আর এখন ছাত্রদল ও যুবদলের ছেলেদের সাথে নিয়ে দাপটের সাথে ড্রেজার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। সকালে প্রশাসনের অভিযান হলে বিকেলের মধ্যেই পাইপ ঠিকঠাক করে রাতেই আবার শুরু করেন মাটি উত্তোলন। মানিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু ছাড়া অন্য কোনভাবেই তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয় বলে অভিমত তাদের।
আরও পড়ুন: নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি
কারণ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শোলধারা চকের ডাঙা, বুতুনী ও শোলধারা এলাকার ইছামতি নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে তা আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা উপার্জন করছেন। বর্তমানে তিনি শোলধারা এলাকার গাজী মিয়ার নিচু জায়গা ভরাটের কাজ করছেন। ড্রেজারের অনবরত চলাচলের কারণে নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি ও ফসলি জমি চরম ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এই এলাকার মূল ড্রেজার ব্যবসায়ীই হচ্ছে মানিক। ড্রেজারের কাঁচা টাকা অনেকটাই নেশার মতো। একারণে, মানিক এ ব্যবসা কোনভাবেই ছাড়তে পারছে না।
স্থানীয়রা আরও জানান, মাসখানেক আগে ঘিওর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। সেসময় তিনি বিপুল পরিমাণ ড্রেজারের পাইপ ধ্বংস করে ড্রেজার স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তখন সাময়িকভাবে স্বস্তি ফিরেছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। তবে, সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। অভিযানের রেশ না কাটতেই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মানিক পুনরায় পুরোদমে মাটি উত্তোলন শুরু করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট মাটি ইছামতী নদী থেকে তুলে বিক্রি করছেন। নদী তীরবর্তী সাধারণ মানুষ ও পরিবেশ সচেতন মহল এই অবৈধ ড্রেজিং অবিলম্বে স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে প্রশাসনের কঠোর ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। ড্রেজার ব্যবসায়ী মানিকের বক্তব্য নেয়ার জন্য তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা তুল ইসলাম জানান, সবচেয়ে বেশি অভিযান করা হয়েছে উপজেলার শোলধারা ও শ্রীধরনগর-বাসুদেববাড়ী এলাকায়। অবশ্যই এবিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা গণমাধ্যমকে বলেন, অনতিবিলম্বে এবিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মানিকগঞ্জ -১ আসনের সাংসদ এসএ জিন্নাহ কবির দৈনিক ভোরের কাগজকে জানান, মাদক, ভেকু এবং ড্রেজারের বিষয়ে কাউকে কোন ছাড় দেয়া হবে না। দলীয় নামপরিচয় ভাঙিয়ে কেউ যদি এধরণের কর্মকাণ্ড ঘটানোর চেষ্টা করে তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
