×

আন্তর্জাতিক

আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে আয়োজিত সেমিনার বন্ধ করল দিল্লির পুলিশ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম

আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে আয়োজিত সেমিনার বন্ধ করল দিল্লির পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নয়াদিল্লিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতাকে নিয়ে আয়োজিত একটি সেমিনার শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, দিল্লি পুলিশের আপত্তির কারণেই অনুষ্ঠানটি বন্ধ করতে হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে তাদের অনুমতির প্রয়োজন ছিল না এবং তারা কোনো হস্তক্ষেপ করেনি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় (এফসিসি) সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলনটি হওয়ার কথা ছিল। এফসিসি সাউথ এশিয়া ও বেলজিয়ামভিত্তিক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন যৌথভাবে ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়লগ টু আ পার্টনারশিপ অ্যান্ড প্রসপারিটি’ শীর্ষক এ আয়োজন করছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার ও দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কিছু বিতর্কের’ কারণ দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে দিল্লি পুলিশ অনুষ্ঠানটির অনুমতি দেয়নি।

আয়োজকদের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, দিল্লি পুলিশের ‘হস্তক্ষেপের’ কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল করতে হয়েছে। আকস্মিক এ পরিস্থিতি আয়োজকদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যে ৮ শ্রেণির মানুষ

এফসিসির এক কর্মকর্তা দ্য প্রিন্টকে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় তিলক মার্গ থানায় গিয়ে অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা চেয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। ওই চিঠিতে পুলিশের পক্ষ থেকে হাতে লিখে জানানো হয়, ‘প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কিছু বিতর্ক থাকায় এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়নি।’

তবে দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শচীন শর্মা পুলিশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দ্য প্রিন্টকে তিনি বলেন, এফসিসির কোনো প্যানেল আয়োজনে পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং পুলিশ অনুষ্ঠানটিতে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি।

তবে এফসিসির দেওয়া নিরাপত্তা চাওয়ার চিঠির ছবি ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে পুলিশের মন্তব্য এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। চিঠিতে তিলক মার্গ থানার সিল ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরও দেখা যায়।

আলোচকদের তালিকায় আওয়ামী লীগ নেতা

সেমিনারকে সামনে রেখে আয়োজকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টারে ১০ জন আলোচকের নাম ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম মাহমুদ।

এ ছাড়া আলোচকদের তালিকায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি নূরুন নবী, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রবি আলম এবং নেপালের শিশু অধিকারকর্মী সুন্দর ঘিমিরে।

তালিকায় আরও ছিলেন বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি, সাবেক জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ, চেক প্রজাতন্ত্রের রাজনীতিক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ওন্দ্রেজ দোস্তাল, ইউনাইটেড ডিপ্লোম্যাটিক কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আসিফ ইকবাল, এফসিসি-আইএপিসির চেয়ারম্যান ভেঙ্কট নারায়ণ এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের মহাসচিব এ এফ এম গোলাম জিলানী।

তবে ভিসা না পাওয়ায় জিলানী ভারতে যেতে পারেননি। দ্য ওয়্যারকে তিনি বলেন, তার ভিসা প্রক্রিয়াধীন ছিল এবং অনুষ্ঠানটি কেন বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশকেন্দ্রিক নয় দাবি করে জিলানী বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ বা ভারতের বিষয় নয়। এটি ইউরোপ-এশিয়ার সম্পর্ক নিয়ে।’

হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তার দাবি, সংগঠনটি কোনো রাজনৈতিক দল বা দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়; মানবাধিকার, টেকসই উন্নয়ন ও শিক্ষা নিয়ে তারা কাজ করে।

তবে দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের ২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদন এবং ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন ইউরোপে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন সেমিনার আয়োজন করেছে।

শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানের পর নতুন বিতর্ক?

এফসিসির প্রেসিডেন্ট ওয়ায়েল আওয়াদ দ্য প্রিন্টকে বলেন, অনুষ্ঠানটি ছিল অংশীদারত্ব ও উন্নয়ন নিয়ে একটি ‘বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা’। পুলিশ কেন অনুমতি দেয়নি, তা তার জানা নেই।

আরও পড়ুন: ‘জামায়াতের তুলনায় আওয়ামী লীগের অপরাধ লঘুই বলা যায়’

তবে এফসিসি-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য প্রিন্ট জানিয়েছে, গত ৫ আগস্ট একই ক্লাবে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই অনুষ্ঠানের পর বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল।

সূত্রটির দাবি, এবারের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের একজন পরিচিত নেতাকে আলোচক হিসেবে রাখা এবং রোহিঙ্গা অধিকারকর্মীর উপস্থিতির কারণে দিল্লির আপত্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

৫ আগস্টের অনুষ্ঠানটি ছিল ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে যাওয়ার পর দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রথম কোনো অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে অডিও কলে যুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও এতে যুক্ত ছিলেন।

বর্তমানে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

৫ আগস্টের ওই অনুষ্ঠানকে ঘিরে ঢাকা আগে থেকেই দিল্লির সহযোগিতা চেয়েছিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, শেখ হাসিনা যেন ভারতের মাটি ব্যবহার করে এমন কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড না করেন, যা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।

ভারত তখন জানায়, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, এটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের আয়োজন এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকার একমত নয়।

তবে অনুষ্ঠানটি হওয়ার পর ঢাকার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনাকে এমন একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার জন্য ক্ষতিকর।

একই সঙ্গে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে কোনো জবাব না পাওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়।

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন চাপ

শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের দাবিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এফসিসির ২৯ আগস্টের অনুষ্ঠানটি।

এর আগে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা চলছিল। তবে ৫ আগস্টের ঘটনার পর বাংলাদেশ জানায়, সফরের জন্য আগে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি হওয়া প্রয়োজন।

১৬ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওই পরিবেশ তৈরিতে ভারতকে শেখ হাসিনাসহ অন্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিদেরও ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ ‘প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার আওতায়’ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় ২৯ আগস্টের এফসিসির অনুষ্ঠানটি সরাসরি বাংলাদেশকেন্দ্রিক না হলেও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বক্তার উপস্থিতি এবং শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দিল্লি অনুষ্ঠানের পর দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া টানাপড়েনের কারণে এটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ধ্বংসস্তূপ থেকে নাটকীয় উদ্ধারের পর বাবা-মায়ের কোলে পাঁচ বছরের শিশু

ধ্বংসস্তূপ থেকে নাটকীয় উদ্ধারের পর বাবা-মায়ের কোলে পাঁচ বছরের শিশু

বন্যার স্রোত আসতেই ছুটির ঘণ্টা, প্রাণে বাঁচল ১,৬৪৩ শিক্ষার্থী

বন্যার স্রোত আসতেই ছুটির ঘণ্টা, প্রাণে বাঁচল ১,৬৪৩ শিক্ষার্থী

মুনাফা বেড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা, কর্মকর্তারা বোনাস পাবেন কত?

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুনাফা বেড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা, কর্মকর্তারা বোনাস পাবেন কত?

মাধ্যমিক প্রধান শিক্ষকদের মাউশির জরুরি নির্দেশনা

মাধ্যমিক প্রধান শিক্ষকদের মাউশির জরুরি নির্দেশনা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App