দিনে-রাতে ২০ ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন রাঙ্গাবালী
কামরুল হাসান রুবেল, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন-রাত মিলিয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ প্রায় ২০ থেকে ২১ ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন থাকছে পুরো উপজেলা। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া ও লো-ভোল্টেজে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও শিক্ষার্থীরা। গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুম ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। বিদ্যুৎনির্ভর সরকারি-বেসরকারি অফিসের কার্যক্রমেও তৈরি হচ্ছে স্থবিরতা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ওয়ার্কশপ, কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেকে জেনারেটর ও ব্যাটারির ওপর নির্ভর করায় বাড়ছে অতিরিক্ত খরচ। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ, ফ্যান, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সমস্যার পাশাপাশি ঘন ঘন ভোল্টেজ ওঠানামায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
আরও পড়ুন: হঠাৎ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৩ নার্সের তাৎক্ষণিক বদলি
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাঙ্গাবালী একটি বিচ্ছিন্ন উপকূলীয় উপজেলা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না থাকায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হবে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ জানতে রাঙ্গাবালী পল্লী বিদ্যুতায়নের এজিএম শ্রী কৃষ্ণ পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রাঙ্গাবালীতে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩ মেগাওয়াট। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন বিশ্বাস দিতে পারবেন বলে জানান তিনি। পরে প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দাবি, সরবরাহ লাইনের ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ কিংবা জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে। তবে দুর্গম উপকূলীয় উপজেলা রাঙ্গাবালীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে রাঙ্গাবালীর মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ থেকে মুক্ত করা হবে।
