মামলা এড়াতে বিয়ে, পরে নির্যাতনের অভিযোগ বেরোবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী উম্মে জেবিনকে প্রতারণার পর মামলার ভয়ে বিয়ে করে পরে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বেরোবির প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং অভিযুক্তের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের আগে মাইদুল ইসলাম বাপ্পি ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতারণা করলে ভুক্তভোগীর পরিবার তাজহাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। পরে আইনি জটিলতা এড়াতে গত ২৬ মার্চ মাইদুল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বাপ্পি তার ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। তিনি কোনো কাজকর্ম না করে সম্পূর্ণভাবে স্ত্রীর উপার্জিত টাকার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন এবং জোরপূর্বক টাকা নিয়ে নেশা করতেন। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই তাকে মারধর করা হতো। তার কষ্টার্জিত অর্থের পাশাপাশি একটি স্মার্টফোনও জোরপূর্বক নিয়ে নিয়েছেন বাপ্পি এবং সেটি নিজের বলে দাবি করছেন।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, বাপ্পির পরিবার থেকে যৌতুক দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে তাকে মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়ে ঘরে আটকে রেখে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়, যাতে তিনি নির্যাতনের বিষয়টি কাউকে না জানান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মাইদুল ইসলামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জেবিন আমার বিবাহিতা স্ত্রী, প্রেমিকা নয়। ওর আর আমার বিষয়টি একান্ত ব্যক্তিগত। এটি নিয়ে সংবাদ করার কিছু নেই।”
এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “আমরা বিষয়টি ইতোমধ্যে তদন্তে দিয়েছি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। আমরা শুনেছি তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল এবং অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর এটি দ্বিতীয় বিয়ে। হয়তো এ বিষয়টি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। যদি কেউ প্রতারণা করে, সে ছেলে হোক বা মেয়ে, অবশ্যই তার শাস্তি হওয়া উচিত। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বেরোবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
