বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:১০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে শুরু হওয়া উত্তেজনা একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রদর্শনী চলাকালে বেরোবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে থাকা একটি ব্যানার সরানোর দাবি জানান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে উভয় পক্ষ গাছের ডাল, চেয়ারসহ বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।
সংঘর্ষে শিবিরের নেতা মেহেদী হাসান আহত হন বলে সংগঠনটির দাবি। অন্যদিকে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমানও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর শিবিরের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ এলাকায় এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মূল ফটকের দিকে অবস্থান নেন। এ সময় উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে উত্তেজনা তাৎক্ষণিকভাবে প্রশমিত হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, একপর্যায়ে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী ভাঙা ইট সংগ্রহ করলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আবারও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে শনাক্ত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পেছনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ইন্ধন থাকতে পারে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।
