রাবিতে শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারসহ তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দফায় দফায় সংঘটিত মারধরের ঘটনার পূর্বাপর পরিস্থিতি উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. গোলাম ছাদিক, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুল হক, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম এবং ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এ. নাঈম ফারুকী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্যাম্পাস ছাড়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে একই বিভাগের শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত রোববার রাতে ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান তাঁর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে মহসিন আলমের পক্ষে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আনাস, হাসিব এবং সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ অস্বীকারের একপর্যায়ে তারা প্রক্টরের সঙ্গে উচ্চবাচ্যে জড়িয়ে পড়েন।
পরদিন সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে আবারও প্রক্টর দপ্তরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন নেতা আনাসকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী বলে অভিযোগ করেন। এ সময় তার মোবাইল ফোনে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে মীমাংসা করে সবাইকে প্রক্টর দপ্তর থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এর কিছুক্ষণ পর রাকসু ভবনে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বিএম নাজমুস সাকিবের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এতে নাজমুস সাকিব আহত হন।
পরে আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের সামনে অবস্থান নিলে সেখানে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তারা পাঠকক্ষের ভেতরে আশ্রয় নেন। পরে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা পাঠকক্ষে ঢুকে তাদের বেধড়ক মারধর করেন।
অভিযোগ রয়েছে, হামলা ঠেকাতে এগিয়ে আসা কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীও মারধরের শিকার হন। পরে প্রক্টরিয়াল বডি, শিক্ষক, পুলিশ ও উপস্থিত শিক্ষার্থীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচার দাবিতে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার এবং মারধরের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। অন্যদিকে প্রক্টরের কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সংঘটিত মারধরের ঘটনাকে ‘মব ভায়োলেন্স’ হিসেবে উল্লেখ করে এর বিচার দাবি জানিয়েছে ক্যাম্পাসের সক্রিয় বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনায় মারধরের শিকার তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সোমবার রাতে নগরের মতিহার থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার হওয়া দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস এবং মাহমুদুল হাসান।
এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির বলেন, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত পূর্বের একটি মামলায় ওই দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
