‘এফডিসিতে কাউকে আমার মরদেহ নিয়ে মায়াকান্নার সুযোগ দেব না’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম। ঢাকার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তৎকালীন পাকিস্তানি সিনেমাতেও নিজের অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দুই বাংলার পাশাপাশি পাকিস্তানের দর্শকদের কাছেও তিনি হয়ে উঠেছিলেন জনপ্রিয় এক তারকা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) এই নন্দিত অভিনেত্রীর জন্মদিন। ১৯৪৬ সালে জন্ম নেওয়া শবনম ৮১তম বছরে পা দিলেন। ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ পর্যন্ত নিয়মিত অভিনয় করেছেন তিনি।
কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ ছিল শবনমের অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা। ছবিটি মুক্তির পর দর্শকের কাছে ‘আম্মাজান’ নামেই আরও বেশি পরিচিতি পান তিনি। তবে এরপর আর কোনো সিনেমার শুটিংয়ে দেখা যায়নি তাকে।
‘আম্মাজান’-এর পর কেন আর অভিনয়ে ফিরলেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিমান ও ক্ষোভের কথা অকপটে জানিয়েছিলেন শবনম।
আরও পড়ুন: মৃত্যুর পরও ইনস্টাগ্রামে সক্রিয়! অভিনেত্রীর পোস্ট ঘিরে রহস্য
তিনি জানান, ‘আম্মাজান’ সিনেমার শুটিংয়ের পর আর কোনো স্টুডিওতে যাননি। কেবল হাতে গোনা কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। দেশের বাইরে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর দেশে ফিরে অনেক কিছু দেখেছেন ও পেয়েছেন, কিন্তু সেসব নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।
শবনম বলেন, তার মনে অনেক কথা জমে আছে, কিন্তু সেগুলো বলার মতো অবস্থায় তিনি নেই। এমনকি নিজের মুখ ‘পুরোপুরি বন্ধ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এফডিসি নিয়ে নিজের অভিমান আরও স্পষ্ট করে শবনম বলেন, একদিন হয়তো তার মৃত্যুর খবর শুনে এফডিসির লোকজন তাকে সেখানে নেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। তবে নিজের মরদেহ যেন কোনোভাবেই এফডিসিতে না নেওয়া হয়, সে বিষয়ে ছেলেকে আগেই বলে রেখেছেন তিনি।
প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালক এবং শবনমের স্বামী রবিন ঘোষের মরদেহও এফডিসিতে নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
জীবনের দীর্ঘ সময় যে এফডিসিতে কাজ করেছেন, দিনের বড় একটি অংশ কাটিয়েছেন, সেই প্রতিষ্ঠান নিয়েই কেন এমন অভিমান—এমন প্রশ্নের জবাবে শবনম বলেন, এর পেছনে অবশ্যই কারণ আছে। তবে সেই কারণ প্রকাশ করতে চান না তিনি।
এফডিসি থেকে জীবদ্দশায় পাওয়া সম্মান নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, মৃত্যুর পর ফুলের মালা দিয়ে আনুষ্ঠানিক সম্মান দেখানোর চেয়ে জীবিত অবস্থায় একজন শিল্পীকে সম্মান দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শবনম বলেন, মৃত্যুর পর এফডিসিতে তার মরদেহ নিয়ে গিয়ে ‘মায়াকান্না’ করার সুযোগ কাউকে দিতে চান না তিনি। বরং নিজের বাসায় নীরবে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
জীবনের এই পর্যায়ে এসে নিজের মতো করে শান্তিতে থাকাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি। তার ভাষায়, ‘আমি শিল্পী। আমি আমার মতো আছি। খুব ভালো আছি।’
