×

জাতীয়

গেজেট প্রকাশের আগে কী কী সমন্বয়, পে স্কেলে নতুন তথ্য

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

গেজেট প্রকাশের আগে কী কী সমন্বয়, পে স্কেলে নতুন তথ্য

ছবি : সংগৃহীত

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরও নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে সময় লাগছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বেতনকাঠামোর মূল সিদ্ধান্তে কোনো জটিলতা নেই। বরং অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতেই বাড়তি সময় লাগছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং বা আইনি যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি জুডিশিয়ারি সার্ভিসের বেতন ও বিভিন্ন ভাতা নিয়ে কয়েকটি বিষয় নতুন বেতনকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন হওয়ায় গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করা হয়। এরপর এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা বলা হলেও এরই মধ্যে ১২ দিন পেরিয়ে গেছে। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে গেজেট প্রকাশ নিয়ে অপেক্ষা ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিজি প্রেস থেকে এখন আইন মন্ত্রণালয়ে

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পে স্কেল মূল সিদ্ধান্তের পর্যায়ে আটকে নেই। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য যে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন, সেটিই এখন চলছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর পে স্কেলের রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসে। এরপর প্রজ্ঞাপনটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় এসআরও নম্বর দিয়ে বাংলাদেশ গেজেটে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে।

জুডিশিয়ারি সার্ভিসের বেতন-ভাতায় সমন্বয়

গেজেট প্রকাশে বিলম্বের আরেকটি কারণ হিসেবে জুডিশিয়ারি সার্ভিসের বেতন ও ভাতার বিষয়টি সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বেতন ও বিভিন্ন ভাতার কয়েকটি বিষয় নতুন বেতনকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করার প্রয়োজন রয়েছে।

এসব বিষয় কীভাবে নতুন বেতনকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কিছু ভাতা নিয়ে প্রত্যাশা এবং অর্থ বিভাগের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে জানা গেছে।

তাই বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির আগে গেজেট প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

‘পে স্কেল আটকে নেই’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদন হচ্ছে বেতনকাঠামোর মূল সিদ্ধান্তের অনুমোদন। এরপর সেটিকে আইনগত ও প্রশাসনিকভাবে কার্যকর করতে প্রজ্ঞাপন ও এসআরও তৈরির প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে সেই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং চলছে। পে স্কেল আটকে নেই; এটি বাস্তবায়নের শেষ ধাপের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ভেটিং শেষ হওয়ার পরই গেজেট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৩১ আগস্ট অনুমোদন, কার্যকর ১ জুলাই থেকে

গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভা নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন করে। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য জয়েন্ট ফোর্সেস ইনস্ট্রাকশনও অনুমোদিত হয়। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর দ্রুত গেজেট প্রকাশের কথা বলা হয়েছিল। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রত্যাশা তৈরি হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তা না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে -মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের আগেই যদি বেতনকাঠামোর খসড়া, রেজল্যুশন ও প্রজ্ঞাপনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত হয়ে থাকে, তাহলে অনুমোদনের পরও কেন এত সময় লাগছে?

কয়েক ধাপে বাড়বে বেতন

নতুন পে স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করার কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০তম গ্রেডে মূল বেতন বাড়বে সর্বোচ্চ প্রায় ১৪২ শতাংশ। এর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা এবং সব গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ফলে গেজেট প্রকাশের সঙ্গে শুধু নতুন মূল বেতন নির্ধারণের বিষয়ই নয়, বেতন ফিক্সেশন, বকেয়া বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়নের বিষয়ও জড়িত।

বকেয়া ও বেতন ফিক্সেশন নিয়ে অপেক্ষা

নতুন পে স্কেলের কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকে ধরা হলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে বেতন ফিক্সেশন ও বকেয়া নিয়ে।

গেজেট প্রকাশে আরও সময় লাগলে ১ জুলাই থেকে কার্যকর নতুন বেতন কীভাবে হিসাব করা হবে, বকেয়া টাকা কখন ও কীভাবে পরিশোধ করা হবে এবং নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কবে থেকে পাওয়া যাবে -এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব বিষয়ে চূড়ান্ত উত্তর পাওয়া যাবে গেজেট প্রকাশের পর। কারণ প্রজ্ঞাপনেই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা স্পষ্ট করা হবে।

এখন অপেক্ষা ভেটিং শেষ হওয়ার

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বিজি প্রেসে রেজল্যুশন পাঠানো, প্রক্রিয়া শেষে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসা এবং পরে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং—সবই গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ।

তবে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রত্যাশা থাকায় বিলম্ব নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের অপেক্ষা বেড়েছে।

বর্তমানে পে স্কেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়া। এরপর প্রয়োজনীয় এসআরও নম্বর দিয়ে বাংলাদেশ গেজেটে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের পরই নতুন বেতনকাঠামোর বাস্তবায়ন, বেতন ফিক্সেশন এবং বকেয়া পাওনার হিসাবসহ পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ইয়েমেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত অন্তত ৪, আহত ১০

ইয়েমেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত অন্তত ৪, আহত ১০

দোকানে ঢুকে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

দোকানে ঢুকে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৪৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৪৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

পুলিশ ফাঁড়িতে সশস্ত্র হামলা, ২ পুলিশ সদস্য আহত

পুলিশ ফাঁড়িতে সশস্ত্র হামলা, ২ পুলিশ সদস্য আহত

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App