মেসির গোলেও জয়বঞ্চিত মায়ামি, পয়েন্ট খোয়াল শেষ মুহূর্তে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) লিওনেল মেসির চোখধাঁধানো গোলও ইন্টার মায়ামিকে জয় এনে দিতে পারল না। ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও যোগ করা সময়ে গোল হজম করে ন্যাশভিল এসসির সঙ্গে ২-২ ব্যবধানে ড্র করেছে মায়ামি। ফলে পূর্ণ ৩ পয়েন্টের বদলে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।
এই ড্রয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে ন্যাশভিল। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারিয়ে শীর্ষ দলের সঙ্গে ব্যবধান আরও বাড়িয়েছে মায়ামি। লিগে আর মাত্র ৯টি ম্যাচ বাকি থাকতে ন্যাশভিলের চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে তারা।
ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মায়ামির জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল না। খেলা শুরুর মাত্র চতুর্থ মিনিটেই ন্যাশভিলকে এগিয়ে দেন স্যাম সুরিজে। দ্রুত গোল হজম করে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।
তবে ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই আক্রমণে ধার বাড়িয়েছে মায়ামি। একপর্যায়ে সমতায় ফেরার পর দ্বিতীয়ার্ধে এগিয়েও যায় তারা। আর সেই গোলের মূল কারিগর ছিলেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা মেসি।
ম্যাচের ৬২ মিনিটে দীর্ঘদিনের জাতীয় দল সতীর্থ রদ্রিগো দে পলের সঙ্গে দারুণ সমন্বয়ে বল আদান-প্রদান করে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের সামনে পৌঁছে যান মেসি। এরপর প্রায় ২০ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
মেসির সেই দৃষ্টিনন্দন গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মায়ামি। গোলটি ছিল চলতি মৌসুমে লিগে তার ১৯তম গোল।
গোল করার পরও থামেননি ৩৯ বছর বয়সী মেসি। ব্যবধান বাড়িয়ে দলকে আরও নিরাপদ অবস্থানে নেওয়ার বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যে একবার তার নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। আরেকবার মেসির শট গোলমুখে পৌঁছানোর আগেই ন্যাশভিলের এক ডিফেন্ডার লাইনের ওপর থেকে হেড করে বল ক্লিয়ার করে দেন।
আরও পড়ুন: অবসরের পরও দেশের জার্সিতে ফিরছেন মেসি?
মেসির সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের ফল হয়তো অন্য রকম হতে পারত। কিন্তু গোলের ব্যবধান আর বাড়াতে না পারার খেসারত শেষ পর্যন্ত দিতে হয়েছে মায়ামিকে।
শেষ মুহূর্তে নাটকীয় সমতা
ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মায়ামি। জয় যখন প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল, তখনই নাটকীয়ভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ন্যাশভিল।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই আবারও গোল করেন স্যাম সুরিজে। তার দ্বিতীয় গোলেই ২-২ সমতায় ফেরে সফরকারীরা। ম্যাচের শুরুতে দলকে এগিয়ে দেওয়া এই ফরোয়ার্ডই শেষ মুহূর্তে গোল করে মায়ামির কাছ থেকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট কেড়ে নেন।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে হতাশায় ভেঙে পড়ে মায়ামি। পুরো ম্যাচে একাধিকবার এগিয়ে থেকেও জয় নিশ্চিত করতে না পারায় গুরুত্বপূর্ণ দুটি পয়েন্ট হাতছাড়া হলো তাদের।
ন্যাশভিলের বিপক্ষে এই ম্যাচটি মায়ামির জন্য চলতি মৌসুমে ঘরের মাঠে এগিয়ে থেকেও পয়েন্ট হারানোর আরেকটি উদাহরণ। এ নিয়ে নিজেদের মাঠে এগিয়ে থাকার পর মোট ১১ পয়েন্ট হারিয়েছে দলটি।
ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করেছেন মায়ামির ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মুরা। তিনি বলেন, পুরো ম্যাচ আধিপত্য বিস্তার করে খেলার পর শেষ মুহূর্তে জয় হাতছাড়া হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।
মুরার মতে, দল সুযোগ তৈরি করলেও রক্ষণভাগে আরও উন্নতি প্রয়োজন। জয় পেতে হলে প্রতিটি ম্যাচে একাধিক গোল করার পাশাপাশি নিজেদের রক্ষণও শক্ত করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজেদের শেষ ৯ ম্যাচে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে মায়ামি। ক্লাবের নতুন কোচ ক্রিস্তিয়ান ‘কিলি’ গঞ্জালেস দায়িত্ব নেওয়ার আগেই দলের পারফরম্যান্সে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ন্যাশভিলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে জয় হাতছাড়া হওয়া সেই সমস্যাগুলোই যেন আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশেষ করে ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার পর লিড ধরে রাখতে না পারা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রক্ষণভাগের ভুল মায়ামির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষস্থান থেকে ৯ পয়েন্ট দূরে থাকা মায়ামির জন্য এখন প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। হাতে রয়েছে মাত্র ৯টি লিগ ম্যাচ। ফলে প্লে-অফের আগে পয়েন্ট হারানোর সুযোগ ক্রমেই কমে আসছে।
সামনে ক্রুস আসুলের বিপক্ষে ফাইনাল
ন্যাশভিলের বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই মায়ামির সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় পরীক্ষা। আগামী বুধবার মেক্সিকোর ক্লাব ক্রুস আসুলের বিপক্ষে ‘কাম্পেওনেস কাপ’-এর ফাইনালে মাঠে নামবে তারা।
চলতি মৌসুমে কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপ ও লিগস কাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর মায়ামির সামনে এখন প্রথম ট্রফি জয়ের সুযোগ এই ফাইনালই। তাই এমএলএসে পয়েন্ট হারানোর হতাশা ভুলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটির জন্য দ্রুত নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে মেসিদের।
ন্যাশভিলের বিপক্ষে মেসি গোল করে ব্যক্তিগতভাবে আলো ছড়ালেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। এখন ক্রুস আসুলের বিপক্ষে ফাইনালে তার পায়ের জাদুতেই মায়ামি মৌসুমের প্রথম ট্রফির স্বপ্ন পূরণ করতে পারে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
