আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট থেকে ফের বিদ্যুৎ সরবরাহ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্রটির ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটটি নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশ সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে সফলভাবে চালু করা হয়। এদিন সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ইউনিটটির জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় (সিঙ্ক্রোনাইজেশন) সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে দুপুরের মধ্যেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোববার এক বার্তায় আদানি পাওয়ার জানায়, এপিএল গোড্ডার দ্বিতীয় ইউনিট ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে সফলভাবে চালু করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই মেরামত ও প্রস্তুতির কাজ শেষ হওয়ায় ইউনিটটি দ্রুত উৎপাদনে ফেরানো সম্ভব হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে ইউনিটটির সমন্বয় সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানানো হয়।
কারিগরি ত্রুটিতে কমে যায় সরবরাহ
এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটির বয়লারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি বন্ধ করতে হয়।
আরও পড়ুন: ড্রোন হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ করলো সৌদি আরব
ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহও নেমে আসে। এমনিতেই জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে গোড্ডা কেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং আরও বেড়ে যায়।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি বিকল হওয়ার আগে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে।
৪৮ ঘণ্টার আশঙ্কা, তার আগেই মেরামত
বয়লারে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই মেরামতের কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে দ্রুত মেরামত কাজ শেষ হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ইউনিটটি উৎপাদনে ফেরানো সম্ভব হয়েছে।
এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্টরা। ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সফলভাবে সমন্বিত হওয়ার পর ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো হবে।
কয়লা সংকটেও কমেছিল উৎপাদন
এর আগে কয়লা পরিবহনে বিঘ্নের কারণে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকেই গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছিল না।
আদানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, রেলপথে যানজট, কয়লা পরিবহনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং অতিবৃষ্টির কারণে কেন্দ্রটিতে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হয়। ফলে প্রয়োজনীয় কয়লার মজুত ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনেও।
তবে আগস্টের শেষ দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়তে শুরু করে। দিনের বেলায় কেন্দ্রটির উৎপাদন প্রায় ৯০০ মেগাওয়াটে এবং সন্ধ্যায় তা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।
পরিস্থিতির আরও উন্নতি হলে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটেরও বেশি করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু ঠিক তখনই বয়লারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে ফের বড় ধরনের ধাক্কা খায় কেন্দ্রটির উৎপাদন।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ উৎস
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে অন্যতম বড় আমদানি উৎস। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটে মোট ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। ফলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের চাপ বাড়ে।
এখন বন্ধ ইউনিটটি পুনরায় সচল হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউনিটটির গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় সফলভাবে সম্পন্ন হলে দুপুরের মধ্যেই বাংলাদেশে গোড্ডা কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গোড্ডা কেন্দ্রের উৎপাদন পুনরুদ্ধার হলে চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। তবে সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি সরবরাহ ও অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
