কারা দেশপ্রেমিক, মীর জাফর, বললেন ওসমান হাদির বোন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি দেশের ইতিহাস ও রাজনীতির বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন। তাদের কাউকে ‘সাচ্চা দেশপ্রেমিক’, আবার কাউকে ‘মীর জাফর’ ও ক্ষমতালোভী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
১২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা ৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন মাসুমা হাদি। পোস্টটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে নানা ধরনের মন্তব্য দেখা গেছে।
পোস্টে মাসুমা হাদি লেখেন, এই অঞ্চলের ইতিহাসের সঙ্গে ১৭৫৭ সালের ইতিহাস গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তার ভাষায়, এই অঞ্চলে যেমন নবাব সিরাজউদ্দৌলা, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ, হাবিলদার রজব আলী, মঙ্গল পান্ডে, মওলানা ভাসানী, আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম জিয়া ও শহীদ ওসমান হাদির মতো দেশপ্রেমিক ছিলেন, তেমনি মীর জাফর, ঘষেটি বেগম, শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের মতো ক্ষমতালোভীরাও ছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বার্থে এসব ব্যক্তির কেউ কেউ দেশকে বারবার বিদেশিদের কাছে ‘বর্গা’ দিয়েছেন। আর দেশকে রক্ষার জন্য এই অঞ্চলের ‘সূর্যসন্তানদের’ বারবার জীবন দিতে হয়েছে।
মাসুমা হাদি আরও লেখেন, যখনই এই অঞ্চলের ওপর ‘বর্গীদের কুনজর’ পড়েছে, তখনই এখানকার বিপ্লবীরা সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জীবন উৎসর্গ করে দেশকে ‘হায়েনাদের কবল’ থেকে রক্ষা করেছেন।
‘কতবার আর সাধারণ মানুষ জীবন দেবে?’
পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই পরিস্থিতির শেষ কোথায় এবং আর কতবার সাধারণ মানুষকে জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশ রক্ষা করতে হবে। তার প্রশ্ন, ‘কেন বিপ্লবীরা বাঁচতে পারে না? কারা দায়ী?’
মাসুমা হাদির ভাষ্য, এই অঞ্চলের ইতিহাস এমন যে সব সময় সাধারণ মানুষ জীবন দেবে, আর স্বার্থলোভী রাজনীতিবিদরা রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এ কারণে তিনি প্রশ্ন রাখেন, এই অঞ্চলে জন্ম নেওয়াই কি তাহলে আজন্ম পাপ?
তিনি উল্লেখ করেন, ১৭৫৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলের বহু মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। তারপরও অঞ্চলটিকে ‘মীর জাফরমুক্ত’ করা সম্ভব হয়নি এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও শেষ হয়নি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান
মাসুমা হাদি অভিযোগ করেন, যারা সরকার গঠন করছে তারা নিজেদের সাময়িক সুবিধার জন্য জুলাই সনদ অস্বীকার করছে। অন্যদিকে বিরোধী দল ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো’ -এমন মনোভাব নিয়ে চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার দাবি, ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় বিরোধী দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করার মতো কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে লেখেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে এবং কোনোভাবে ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে যারা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন, তারা বিদেশে চলে যাবেন। কিন্তু ক্ষমতার বাইরে থাকা নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ভাগ্যে কী জুটবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মাসুমা হাদি বলেন, যারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাস্তায় নামেনি, বরং দেশকে আধিপত্যবাদমুক্ত করার জন্য রাস্তায় নেমেছিল, তাদের দায়িত্ব কে নেবে -সেটিও ভাবতে হবে।
তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থের কারণে সিপাহী বিদ্রোহের পর এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের যে করুণ পরিণতি হয়েছিল, তার চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্য অপেক্ষা করছে।
সবশেষে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাসুমা হাদি বলেন, শুধু পাঁচ বছরের ক্ষমতার মোহে দেশকে আর ‘জাহান্নাম’ বানানো উচিত নয়। দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশের ‘মুক্তিকামী’ ১৬ কোটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ। জাস্টিস ফর হাদি।’
