৩ লাখ টন ডিজেল কিনছে সরকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এপ্রিল মাসের চাহিদা পূরণের জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিএপিএম) ৩ লাখ টন ডিজেল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে নিয়মিত সরবরাহকারীরা পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে (বিপিসি) জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ডিজেল সরবরাহে দুটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি যুক্ত থাকবে। দুবাইভিত্তিক পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন ১ লাখ টন এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এঅ্যান্ডএ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ২ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে। প্রথম চালান আগামী ২৭ মার্চের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।
আরো পড়ুন : ইরাকি তেল রপ্তানি করতে প্রস্তুত কুর্দিস্তান
জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এপ্রিল মাসে দেশের পরিবহন, কৃষি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছে।
মূল্য সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি জানান, এঅ্যান্ডএ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস প্রতি ব্যারেল ৭৫ ডলারের স্থির দামে প্রস্তাব দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে লজিস্টিক জটিলতার কারণে সরবরাহকারীর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে কিছু উদ্বেগ রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন-১) এ কে এম ফজলুল হক বলেন, সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরাসরি ক্রয় ছাড়া বিকল্প নেই। আমাদের লক্ষ্য কোনো প্রিমিয়াম ছাড়াই নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি গ্রহণ করেছে।
