শেষ ৭ মিনিটে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
একটা সময় মনে হচ্ছিল এবার বুঝি শেষ! ইংল্যান্ডের দেয়ালে আটকে গেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ফুটবল যদি অলৌকিকতার নাম হয়, তাহলে তার আরেকটি নাম আর্জেন্টিনা। আর সেই অলৌকিকতার পরিচালক? লিওনেল মেসি!
আটলান্টার সেমিফাইনালে শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনা। ইংল্যান্ড শক্ত রক্ষণে আর্জেন্টিনার আক্রমণ বারবার ঠেকিয়ে দেয়। প্রথমার্ধে মেসিকে ঘিরে রাখে একাধিক ডিফেন্ডার, ফলে স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে হ্যারি কেইনের পাস থেকে অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। তখন মনে হচ্ছিল, ১৯৬৬–এর পর প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালের স্বপ্ন বুঝি সত্যি হতে যাচ্ছে।
আরো পড়ুন: বিশ্বকাপে এর চেয়ে বড় ম্যাচ আর হয় না
কিন্তু এরপরই বদলে যায় ম্যাচের গল্প। পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণে চাপে ফেলে ইংল্যান্ডকে। মেসি নিচে নেমে বল বিলি করছেন, মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করছেন, আর পুরো দল যেন তখন নতুন প্রাণ ফিরে পায়।৮৫ মিনিটে মেসির তৈরি করা আক্রমণ থেকে এনজো ফার্নান্দেজ দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান। পুরো স্টেডিয়াম তখন আর্জেন্টিনার নামে গর্জে ওঠে।
সমতা ফিরেই থামেনি আলবিসেলেস্তেরা। যোগ করা সময়ের ৯২ মিনিটে আবারও জাদু দেখান মেসি। তাঁর নিখুঁত পাস থেকে বদলি নেমে লাউতারো মার্টিনেজ হেডে জড়িয়ে দেন জয়ের গোল।মাত্র সাত মিনিটের ঝড়ে ০-১ থেকে ২-১ ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা।
আরো পড়ুন: বিশ্বকাপ উন্মাদনায় পরিবর্তন হলো রেলস্টেশনের নাম
এই বিশ্বকাপে এটি প্রথম নয়। মিশর, সুইজারল্যান্ড একাধিক নকআউট ম্যাচেই পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্কালোনির দল। যত সময় গড়ায়, ততই যেন আরো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে তারা।
আরেকবার প্রমাণ হলো এই দলকে শেষ বাঁশি বাজার আগে কখনোই হারিয়ে দেওয়া যায় না। এখন সামনে স্পেন। একদিকে তরুণদের দুর্দান্ত ফুটবল, অন্যদিকে মেসির শেষ বিশ্বকাপের স্বপ্ন। বাংলাদেশের কোটি কোটি আর্জেন্টিনা সমর্থকের অপেক্ষা এখন আর মাত্র একটি ম্যাচ। আর সেই ম্যাচ জিতলেই মেসির হাতে উঠতে পারে ইতিহাসের আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি।
