হরমুজের পর আরেক প্রণালি বন্ধের ইঙ্গিত ইরানের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার পর এবার আরো বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটতে পারে ইরান। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মিত্রগোষ্ঠী হুথিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব-এল-মান্দেব প্রণালিও বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে তেহরান।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পাবে। একই সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহন পথই ঝুঁকির মুখে পড়বে। এদিক, ইরানের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলাও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াতে সংঘাতের পরিধি বিস্তৃত করার কৌশল নিয়েছে তেহরান। উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করাই তাদের লক্ষ্য।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে ইরান ইতোমধ্যে তার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। এখন লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব-এল-মান্দেব প্রণালিকেও চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের বড় একটি অংশ এই প্রণালি দিয়েই সম্পন্ন হয়।
আরো পড়ুন : মার্কিন হামলায় নিহত ৭ ইরানি সেনা
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত। তাঁর দাবি, এমনটি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন হুথি প্রতিরোধ আন্দোলন আনসারুল্লাহর রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে ইয়েমেনে হামলা চালাতে উসকানি দিচ্ছে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপে ওয়াশিংটন কোনো কৌশলগত সুবিধা পাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আল-ফারাহ আরো বলেন, পরিস্থিতি আরো অবনতি হলে হরমুজ ও বাব-এল-মান্দেব—দুই প্রণালিই একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালি ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত অস্ত্র হলেও চাপ আরো বাড়াতে বাব-এল-মান্দেবই হতে পারে তাদের শেষ বড় হাতিয়ার।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক ফাওয়াজ গেরগেস রয়টার্সকে বলেন, প্রয়োজন হলে ইরান সংঘাতকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত। তাঁর মতে, তেহরান ওয়াশিংটনকে বোঝাতে চাইছে যে তারা একই সঙ্গে হরমুজ ও বাব-এল-মান্দেব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে সক্ষম। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সংঘাত কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।
