×

ফুটবল

যেভাবে স্পেনকে ফিরিয়ে আর্জেন্টিনার হয়েছিলেন মেসি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১৫ এএম

যেভাবে স্পেনকে ফিরিয়ে আর্জেন্টিনার হয়েছিলেন মেসি

আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ছবি : সংগৃহীত

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতার পর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। রেকর্ড ৪৮টি দল নিয়ে শুরু হওয়া এবারের বিশ্বকাপ এখন এসে দাঁড়িয়েছে শেষ লড়াইয়ে। আগামী রোববার (১৯ জুলাই) নিউ জার্সিতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফুটবলের এই দুই পরাশক্তি।

আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির জন্য এই ফাইনাল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলছেন এবং এটি হতে যাচ্ছে তাঁর তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। তবে এই ফাইনালের গুরুত্ব আরো বেশি অন্য একটি কারণে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে স্পেন জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিজের স্বপ্নের দেশ আর্জেন্টিনাকেই বেছে নিয়েছিলেন মেসি।

১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনায় পাড়ি

২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত যুব একাডেমি লা মাসিয়ায় যোগ দিতে স্পেনে যান মেসি। এরপর কাতালান ক্লাবটির হয়ে টানা ২১ বছর কাটান তিনি। বার্সেলোনার জার্সিতে নিজেকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পর ২০২১ সালে যোগ দেন ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনে (পিএসজি)।

স্পেনে দীর্ঘ সময় কাটালেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর স্বপ্ন ছিল সবসময় আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামা। সেই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্যারিয়ারের ভিত্তি তৈরি করে দেয়।

যেভাবে আর্জেন্টিনার নজরে আসেন মেসি

আর্জেন্টিনার সাবেক কোচ হোসে পেকারম্যান, যিনি মেসিকে সিনিয়র জাতীয় দলে অভিষেক করিয়েছিলেন। তিনি একবার জানিয়েছিলেন, ২০০৩ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ চলাকালে প্রথমবারের মতো কোচিং স্টাফের কাছ থেকে তিনি মেসির কথা শোনেন।

এরও আগে, ২০০২ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের তৎকালীন কোচ মার্সেলো বিয়েলসা এবং তাঁর সহকারী ক্লদিও ভিভাস ইউরোপ সফরে স্পেনে যান। উদ্দেশ্য ছিল স্পেনে খেলা আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের পর্যবেক্ষণ করা। সেই সফরেই তাঁদের নজরে আসে বার্সেলোনার এক কিশোর প্রতিভার নাম- লিওনেল মেসি।

আরো পড়ুন : আত্মসম্মান রক্ষার লড়াইয়ে দৃষ্টি গোল্ডেন বুটের ওপরও

ভিডিও ক্যাসেট পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বিয়েলসার হাতে

মেসির শুরুর দিকের প্রতিনিধি হোরাসিও গাজ্জিওলি পরে এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের একটি ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, মেসির বাবা হোর্হে মেসিই প্রথম আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচিং স্টাফকে ছেলের খেলার ভিডিও দেখানোর উদ্যোগ নেন।

গাজ্জিওলি ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, যা পরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস প্রকাশ করে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটা ছিল হোর্হের (মেসির বাবা) ধারণা। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘হোরাসিও, আর্জেন্টিনা জাতীয় দল বার্সেলোনায় এসেছে। তুমি কি লিওর কিছু খেলার ভিডিও তাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবে?’ তখন আর্জেন্টিনায় লিওকে প্রায় কেউই চিনত না। বার্সেলোনা ক্লাব আমাকে তাঁর কিছু খেলার ভিডিও দিয়েছিল। আমি সেই ভিএইচএস টেপ নিয়ে বার্সেলোনার হোটেল প্রিন্সেসা সোফিয়ায় যাই, যেখানে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ অবস্থান করছিলেন। সেখানে গিয়ে বিয়েলসার সহকারী ক্লদিও ভিভাসকে খুঁজে বের করি।

গাজ্জিওলি বলেন, মার্সেলো (বিয়েলসা) তখন আর্জেন্টিনার সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করেছিলেন। ২০০২ বিশ্বকাপের পর আমরা ইউরোপ সফরে বের হয়েছিলাম, যাতে বিদেশে খেলা আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের সঙ্গে দেখা করা যায়। বার্সেলোনায় অবস্থানকালে এক আর্জেন্টাইন ব্যক্তি আমার কাছে এসে মেসির কথা বলেন।

তিনি জানান, এরপর তিনি বিষয়টি বিয়েলসাকে জানান। তিনি বলেন, আমি মার্সেলোকে বললাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘ছেলেটা কি ভালো খেলে?’ আমি বললাম, ‘ভালো নয়, অবিশ্বাস্য খেলে।’ তিনি বললেন, ‘ভিডিওটা চালাও।’ ভিডিও চালানোর পর তিনি বললেন, ‘স্বাভাবিক গতিতে চালাও, কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।’ তখন আমি বললাম, ‘মার্সেলো, এটিই স্বাভাবিক গতি।’ এরপর তিনি বিস্মিত হয়ে বলেছিলেন, ‘এই ছেলেটা তো অবিশ্বাস্য!’

অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে সুযোগ পাননি

তবে বিয়েলসার হাতে ভিডিও পৌঁছানোর পরও তখন আর খুব বেশি কিছু করার সুযোগ ছিল না। কারণ তখন আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচ হুগো তোকাল্লি ইতোমধ্যেই ২০০৩ অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে ফেলেছিলেন। ফলে শেষ পর্যন্ত মেসিকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ওই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেয়।

পরে স্পেন দলের এক সদস্য তোকাল্লিকে বলেছিলেন, মেসি যদি তোমাদের দলে খেলত, তাহলে আর্জেন্টিনা সম্ভবত স্পেনকে হারিয়ে দিত।

কীভাবে আর্জেন্টিনার হয়ে খেললেন মেসি

বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফিরে তোকাল্লি সিদ্ধান্ত নেন, যেভাবেই হোক মেসিকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। এজন্য দ্রুত একটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়, যাতে তরুণ মেসিকে কাছ থেকে দেখা যায়। তবে ম্যাচটি আয়োজনের প্রক্রিয়া ছিল বেশ ব্যতিক্রমী।

সময়ের স্বল্পতার কারণে সব প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি ম্যাচটি পরিচালনার জন্য আর্জেন্টিনা থেকেই একজন রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কারণ ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ম্যাচে স্বীকৃত রেফারি থাকা বাধ্যতামূলক ছিল।

স্পেন থেকেও এসেছিল প্রস্তাব

হোরাসিও গাজ্জিওলি জানিয়েছেন, সে সময় স্পেন জাতীয় দলের পক্ষ থেকেও মেসিকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। তিনি বলেন, আমি অনেক ফোনকল পেয়েছিলাম। সবাই জানতে চাইত, মেসি কি স্পেন জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারবে? আমি সবাইকে বলতাম, সিদ্ধান্তটা সম্পূর্ণ লিও এবং তাঁর পরিবারের। তাঁর প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্নই ছিল না। কিন্তু শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ছিল তাঁদের।

সিদ্ধান্তে কখনো বদল আনেননি মেসি

স্পেনের আগ্রহ, আলোচনা কিংবা নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যেও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরেননি লিওনেল মেসি। গাজ্জিওলির ভাষায়, লিওর সিদ্ধান্ত সবসময়ই পরিষ্কার ছিল। ক্লাব পর্যায়ে সে বার্সেলোনার হয়ে খেলবে, কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবলে সে শুধু আর্জেন্টিনার জার্সিই পরতে চেয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের জন্ম দেয়। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করেন লিওনেল মেসি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সিলেটে হাম উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

সিলেটে হাম উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল

চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল

যেভাবে স্পেনকে ফিরিয়ে আর্জেন্টিনার হয়েছিলেন মেসি

যেভাবে স্পেনকে ফিরিয়ে আর্জেন্টিনার হয়েছিলেন মেসি

সিএনজি অটোরিকশা চলাচলে সিএমপির নির্দেশনা

সিএনজি অটোরিকশা চলাচলে সিএমপির নির্দেশনা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App