যে কারণে ‘বিশ্বকাপ ট্রফি’ বিক্রি করতে বাধ্য হলেন ফরাসি তারকা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
ফ্রান্সের বিশ্বজয়ী ডিফেন্ডার বেনজামিন মেন্ডি। ছবি: সংগৃহীত
একসময় বিশ্বের সবচেয়ে দামি ডিফেন্ডারদের একজন ছিলেন ফ্রান্সের বেঞ্জামিন মেন্ডি। ২০১৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হিসেবে শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও আর্থিক সংকটের কারণে এবার নিজের বিশ্বকাপজয়ী ট্রফির অফিসিয়াল রেপ্লিকাই বিক্রি করতে হয়েছে এই ফরাসি ফুটবলারকে।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম গোল ডটকম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্মারক নিলাম প্রতিষ্ঠান গোল্ডিনের ‘গ্লোবাল ফুটবল অকশন পার্ট-২’-এ মেন্ডির ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা ট্রফির রেপ্লিকাটি নিলামে ওঠে। ৩৮ দফা দরদামের পর এটি ৬২ হাজার ২০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৭৬ লাখ টাকা।
এটি ফিফার মূল বিশ্বকাপ ট্রফি নয়। নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপজয়ী প্রতিটি খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগত স্মারক হিসেবে একটি অফিসিয়াল রেপ্লিকা ট্রফি দেওয়া হয়। ৩৮ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই ট্রফিটির সত্যতা নিশ্চিত করতে মেন্ডি স্বাক্ষরিত একটি সত্যায়ন সনদও নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দেন।
আরো পড়ুন: তীব্র বিরোধিতার মুখে বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল ফিফার
লিওনেল মেসি ও পেলের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্মারকের পাশাপাশি মেন্ডির এই বিশ্বকাপজয়ী রেপ্লিকাটিও একই নিলামে তোলা হয়, যা সংগ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে।
মেন্ডির এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের প্রভাব। ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তিনি। প্রায় দুই বছর ধরে বিচারিক প্রক্রিয়া চলার পর সব অভিযোগ থেকে খালাস পেলেও এই সময়ে বিপুল আইনি ব্যয় বহন করতে গিয়ে তিনি গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েন।
অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে এর আগেও নিজের বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি ও মূল্যবান ঘড়িসহ বেশ কয়েকটি সম্পদ বিক্রি করেছেন মেন্ডি।
আরো পড়ুন: দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গেল বাংলাদেশ
ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলার সময় সপ্তাহে প্রায় পাঁচ লাখ পাউন্ড আয় করলেও বর্তমানে পোল্যান্ডের ক্লাব পোগন শেচিনে তার সাপ্তাহিক বেতন প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড।
সব বিতর্ক পেছনে ফেলে ক্যারিয়ার নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ২৯ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার। তবে বিশ্বকাপজয়ের স্মারক বিক্রির বিষয়ে তিনি এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
