×

ফুটবল

ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপ বিক্রির বাধা হয়ে দাঁড়ালেন যে ২ নারী

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপ বিক্রির বাধা হয়ে দাঁড়ালেন যে ২ নারী

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফিফার ভেতরে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্বকাপসহ সংস্থার বড় টুর্নামেন্টগুলোর অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে ইউরোপীয় ফুটবল প্রশাসকদের একাংশ এটিকে কেবল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেননি; তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে সদস্য দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে জরুরি অনলাইন বৈঠকে বসে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। প্রায় ১৫০ কর্মকর্তা অংশ নেওয়া সেই বৈঠকে ফিফার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রথমে বক্তব্য দেন উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন। এরপর কোষাধ্যক্ষ ও সহসভাপতি শান্দোর চানি, ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী মার্ক বুলিংহামসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা মতামত তুলে ধরেন।

তবে বৈঠকের মোড় ঘুরিয়ে দেন উয়েফার সহসভাপতি লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার। তিনি ফিফার সঙ্গে সমঝোতার পরিবর্তে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ সংস্থার প্রতিযোগিতা বর্জনের মতো কঠোর অবস্থানের প্রস্তাব দেন।

এরপর নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেসও একই অবস্থান নেন। শুধু বর্জনের আহ্বানই নয়, প্রয়োজন হলে ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

উয়েফার ২১ সদস্যের নির্বাহী কমিটিতে নারী সদস্য মাত্র দুজন লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার ও লিসে ক্লাভেনেস। অথচ ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানও নেন এই দুই নারী।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক-এর তথ্য অনুযায়ী, উয়েফার অভ্যন্তরীণ আলোচনায় সেফেরিন ছাড়া আর কেউ ম্যাকঅ্যালিস্টার ও ক্লাভেনেসের মতো কঠোর অবস্থান নেননি। পরে গণমাধ্যমেও ফিফার পরিকল্পনার সবচেয়ে প্রকাশ্য সমালোচনা করেন তারাই। ইউরোপীয় দেশগুলোর তীব্র আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত ইনফান্তিনোর ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার ও লিসে ক্লাভেনেস দুজনই সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার। খেলোয়াড়ি জীবনের পর তারা শিক্ষা, আইন ও ক্রীড়া প্রশাসনে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করে ফুটবল প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে জায়গা করে নেন।

ম্যাকঅ্যালিস্টার ১৯৯২ সালে ওয়েলস নারী জাতীয় ফুটবল দলের স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। পরে ২০২৩ সালে প্রথম ওয়েলশ প্রতিনিধি হিসেবে উয়েফার নির্বাহী কমিটিতে নির্বাচিত হন। তার উদ্যোগেই নির্বাহী কমিটিতে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা একটি থেকে বাড়িয়ে দুটি করা হয়।

অন্যদিকে লিসে ক্লাভেনেস নরওয়ের হয়ে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৭৩টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০২২ সালে তিনি নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের ইতিহাসে প্রথম নারী সভাপতি নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কাতার বিশ্বকাপ, মানবাধিকার, ফুটবল প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সরব অবস্থান নিয়ে আলোচনায় আসেন।

বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে নারীদের প্রতিনিধিত্ব এখনও সীমিত। ফিফা কাউন্সিলের ৩৭ সদস্যের মধ্যে মাত্র আটজন নারী। আর ফিফার ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে নারী সভাপতির সংখ্যা মাত্র ১০টি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন বাস্তবতায় ম্যাকঅ্যালিস্টার ও ক্লাভেনেসের অবস্থান ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ইনফান্তিনোর বিতর্কিত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থান প্রমাণ করেছে, নেতৃত্বে সংখ্যার চেয়ে সাহসী অবস্থানই অনেক সময় বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

এমবাপ্পেকে বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা সরকারের

এমবাপ্পেকে বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা সরকারের

পুলিশের ৮ কর্মকর্তাকে বদলি

পুলিশের ৮ কর্মকর্তাকে বদলি

বিরোধী দল শেখ হাসিনার মতো কথা বলছে

মির্জা ফখরুল বিরোধী দল শেখ হাসিনার মতো কথা বলছে

শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানে কী থাকছেন সাকিব?

শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানে কী থাকছেন সাকিব?

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App