চলতি মাসের শেষে দেশব্যাপী হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকেই দেশব্যাপী হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সরকারের উদ্যোগে পর্যাপ্ত হামের ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে রাঙামাটি ও বান্দরবান ছাড়া দেশের সব জেলায় প্রথম ধাপের টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী জানান, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা শিশুদের জন্য ‘মপ-আপ’ ও জোরদার টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। দুর্গম ও হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় লক্ষ্যমাত্রার বাইরেও শিশুদের টিকার আওতায় আনা হয়েছে। চলতি মাসের শেষদিকে পুনরায় বিশেষ টিকাদান অভিযান জোরদার করা হবে।
আরও পড়ুন: ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের অগ্রগতি তুলে ধরে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্যসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। তিনি দেশের ২৫টিরও বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং এসব পরিদর্শনে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও সেবার মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করেন।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে আসা-যাওয়া ও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। হাসপাতালের ড্রেনেজ ও পরিচ্ছন্নতার কোনো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিলেটে নির্মাণাধীন ও অনুমোদিত সরকারি হাসপাতালগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করে শিগগিরই চালু করার আশ্বাসও দেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের বিভ্রান্ত করে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান চলছে।
এদিকে সিলেটের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সিলেটে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধিতে তিনটি প্রধান প্রকল্প চালুর কাজ চলছে।
তিনি জানান, শিগগিরই একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল এবং ৪৫০ শয্যা বিশিষ্ট অসম্পূর্ণ ক্যান্সার ইনস্টিটিউট দ্রুত প্রস্তুত করে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পূর্বে ঘোষিত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল চালুর প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বিসিকের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং এসব স্বাস্থ্য প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পুরো অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এর আগে সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মকর্তা, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় রোগীদের ভোগান্তি কমানো, সেবার মান বৃদ্ধি, হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরিদর্শনকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরীসহ স্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
